‘শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইব,- জানালেন অভিজিৎ দীপকে

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নিজেদের অবস্থানে সম্পূর্ণ অনড় রইল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। আজ তক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন কোনোভাবেই থামবে না। শুধু তাই নয়, তিনি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে তাঁরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করবেন।

অভিজিৎ দিপকের দাবি, সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতেই এই মুহূর্তে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। অন্যথায় সরকারেরই বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতি হবে।

“সরকারের স্বার্থ ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগেই রক্ষা হবে। যদি তা না হয়, তবে সরকারেরই ক্ষতি। কারণ আমরা তখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে পথে নামব।” — অভিজিৎ দিপকে, প্রতিষ্ঠাতা, CJP

সোনম ওয়াংচুক ও বিরোধী সমর্থন প্রসঙ্গে মন্তব্য

পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুরের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে অভিজিৎ দিপকে জানান, এই আন্দোলনে সোনম ওয়াংচুকের ত্যাগ অত্যন্ত অপরিসীম এবং তাঁর সিদ্ধান্তে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। CJP-র তরফেই তাঁকে অনশন প্রত্যাহার করে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে সোনম ওয়াংচুক অনশন তুললেও তাঁদের আন্দোলন আগের মতোই চলবে বলে স্পষ্ট করে দেন তিনি।

পাশাপাশি, এই আন্দোলনে বিভিন্ন বিরোধী দলের সমর্থন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে যাঁরা তাঁদের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছেন, তিনি তাঁদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সরকারের সঙ্গে বৈঠক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আন্দোলনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অভিজিৎ দিপকে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এখনও তাঁদের দাবিগুলির বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ও আনুষ্ঠানিক আশ্বাস মেলেনি। তাই যতদিন না ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করছেন, ততদিন এই আন্দোলন চলবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী কাল তাঁদের ফের আলোচনার জন্য তলব করা হয়েছে।

কেন্দ্রের অন্দরের খবর: মোদী সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ

কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সম্ভবত পদত্যাগ করছেন না। এর আগে CJP-র নেতৃত্বের সঙ্গে এক ম্যারাথন বৈঠকে বসেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। বৈঠকে CJP প্রধানত শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিই তোলে এবং আলোচনার পর সরকারের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার সময় চাওয়া হয়েছিল।

তবে সূত্রের খবর, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার সম্ভাবনা কম থাকলেও, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের অন্যান্য একাধিক দাবি মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে মোদী সরকার। বিশেষ করে, নিট (NEET) কেলেঙ্কারির জেরে যে সমস্ত পড়ুয়ারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে আর্থিক অনুদান বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *