প্রতিবাদস্থলেই স্ক্যান হবে মুখ! যন্তরমন্তরে কড়া নজরদারির মুখোমুখি দাগি আসামিরা

রাজধানীর যন্তরমন্তরে চলা ছাত্র বিক্ষোভের মধ্যেই আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এবার প্রযুক্তির বড় সাহায্য নিল দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রতিবাদস্থলের নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করতে সেখানে ফেসিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম (FRS) বা মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হয়েছে। বিক্ষোভস্থলের চারপাশে মোট চারটি এফআরএস ইউনিট বসানো হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো এই আন্দোলনের ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা পলাতক আসামি, গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত অপরাধী বা ইতিহাসখ্যাত দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা।
প্রযুক্তির ব্যবহার ও পুলিশের যুক্তি:
-
অপরাধী চিহ্নিতকরণ: ঐতিহাসিকভাবে যন্তরমন্তর গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের কেন্দ্র হলেও, গত কয়েকদিনের আন্দোলনকে ঘিরে কোনো অপরাধী বা সমাজবিরোধী উপাদান যাতে ফায়দা লুটতে না পারে, সে কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
-
রিয়েল-টাইম অ্যালার্ট: এই প্রযুক্তির সাহায্যে পুলিশ রিয়েল-টাইমে মানুষের মুখ স্ক্যান করতে পারবে। যদি কোনো দাগি আসামি বা পলাতক ব্যক্তি ওই এলাকায় প্রবেশ করে, তবে সিস্টেমটি তৎক্ষণাৎ পুলিশকে সতর্কবার্তা (Alert) পাঠাবে।
-
পুলিশের আশ্বাস: দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই নজরদারির ফলে কোনো সাধারণ বা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীর অধিকার খর্ব হবে না। সম্পূর্ণ সাময়িক এই ব্যবস্থাটি শুধুমাত্র অপরাধীদের ধরার জন্যই তৈরি এবং আন্দোলন শেষ হলেই এই ইউনিটগুলি তুলে নেওয়া হবে।
বিতর্ক ও মানবাধিকারের প্রশ্ন:
পুলিশ প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে অবশ্য ইতিমধ্যেই আইনি ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশের আশঙ্কা, গণ-আন্দোলনস্থলে ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির যথেচ্ছ ব্যবহার সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (Right to Privacy) লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সমালোচকদের মতে, এই ধরনের নজরদারি সাধারণ নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে এক প্রকার ভয় বা মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সবমিলিয়ে, একদিকে ছাত্র-যুবকদের তীব্র আন্দোলন এবং অন্যদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই হাই-টেক পদক্ষেপ—দিল্লির রাজনৈতিক পারদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।