মণিপুর হিংসার দ্রুত বিচার চেয়ে বড় পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের! গঠন করা হচ্ছে বিশেষ আদালত?

মণিপুরে ২০২৩ সালে সংঘটিত জাতিগত হিংসা সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলাগুলির বিচারকাজ আরও দ্রুত ও নিয়মিতভাবে (প্রতিদিনই) পরিচালনার জন্য এবার বিশেষ আদালত গঠনের জোরালো প্রস্তাব দিল সুপ্রিম কোর্ট। এর পাশাপাশি শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তদন্তকারী সংস্থাগুলি যেন সমস্ত বকেয়া তদন্তের কাজ দ্রুত সমাপ্ত করে এবং প্রতিটি ভুক্তভোগী যাতে তাঁদের নিজ নিজ চার্জশিটের প্রতিলিপি সুনিশ্চিতভাবে হাতে পান, তা অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে।

চার্জশিটের প্রতিলিপি ও আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ:
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনাকে নিয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ মণিপুরের হিংসা সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানিকালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় লক্ষ্য করে। আদালত দেখতে পায় যে, হিংসার শিকার হওয়া বহু ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবার সিবিআই (CBI) এবং রাজ্যের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা এসআইটি (SIT)-র দাখিল করা ফৌজদারি মামলার চার্জশিটের প্রতিলিপি এখনও পর্যন্ত হাতে পাননি।

এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ ভুক্তভোগীদের পক্ষের আইনজীবীদের গুয়াহাটি ও মণিপুর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করে চার্জশিটের প্রতিলিপি চেয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। একইসঙ্গে, সমস্ত তদন্তকারী সংস্থাকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যেন আইনজীবীদের হাতে সমস্ত চার্জশিটের প্রতিলিপি তুলে দেওয়া হয়।

বিশেষ আদালত গঠন ও বিস্তারিত তথ্য তলব:
ফৌজদারি মামলাগুলোর বিচারকাজ দৈনিক ভিত্তিতে দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ আদালত গঠনের প্রস্তাব দিয়ে শীর্ষ আদালতের এই বিশেষ বেঞ্চ রাজ্য সরকার, এসআইটি এবং সিবিআই-এর পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটিকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে যে, যে সমস্ত মামলার তদন্ত ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়ে চার্জশিট জমা পড়েছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য এবং যে সমস্ত মামলার তদন্ত এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেই সমস্ত বিষয়ের একটি বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য একত্রিত করে দ্রুত আদালতে পেশ করতে হবে। আদালতের মতে, এই সঠিক তথ্য হাতে থাকলে খুব সহজেই নির্ধারণ করা সম্ভব হবে যে, দ্রুত বিচারকাজ পরিচালনার জন্য ঠিক কতগুলি বিশেষ আদালতের সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন রয়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের মামলা ও নতুন স্ট্যাটাস রিপোর্ট তলব:
এর পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট জাতিগত হিংসার ভয়াবহ ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ৩০ জন ব্যক্তিকে নিয়ে দায়ের হওয়া মামলাগুলি নতুন করে গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার জন্য মণিপুর হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমান বেঞ্চ সিবিআই, রাজ্যের এসআইটি এবং মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন ডিজিপি দত্তাত্রেয় পাদসালগিকারের নেতৃত্বাধীন আদালত-নিযুক্ত মনিটরিং কমিটিকে এই হিংসা-সংক্রান্ত মামলাগুলির সামগ্রিক বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে একটি বিস্তারিত ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ (Status Report) জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে।

প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৩ মে পাহাড়ি জেলাগুলিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষের ‘শিডিউলড ট্রাইব’ (ST) বা তফসিলি উপজাতি মর্যাদার দাবির তীব্র প্রতিবাদের জেরে ‘ট্রাইবাল সলিডারিটি মার্চ’ আয়োজনের সময় মণিপুরে প্রথম রক্তক্ষয়ী জাতিগত হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ভয়াল দিন থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত বিগত সময়গুলিতে এই সংঘর্ষে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, শত শত মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার সাধারণ মানুষ তাঁদের বাড়িঘর হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *