নিজেকে তরুণ রাখতে ল্যাবে তৈরি করলেন নিজস্ব ‘বেবি ক্লোন’! অমরত্বের খোঁজে চাঞ্চল্যকর দাবি মার্কিন বিলিয়নেয়ারের

৪৮ বছর বয়সী আমেরিকান প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ার ব্রায়ান জনসনের একটি নতুন ও চাঞ্চল্যকর দাবি ঘিরে বর্তমানে ইন্টারনেটে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বার্ধক্যকে পরাজিত করা এবং অমরত্ব লাভের প্রতি নিজের তীব্র আগ্রহের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্রায়ান এবার দাবি করেছেন যে, তিনি ল্যাবে নিজের একটি ‘বেবি ক্লোন’ তৈরি করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (পূর্বে যা টুইটার নামে পরিচিত ছিল) তিনি এক পোস্টে প্রকাশ করেছেন যে এই ক্ষুদ্র ক্লোন বা ‘বেবি ব্রায়ান’ বর্তমানে একটি পেট্রি ডিশের মধ্যে নিরাপদে বেড়ে উঠছে।

পেট্রি ডিশে ‘শিশু-ব্রায়ান’: আসল রহস্য কী?
ব্রায়ান জনসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তিনি প্রথমে নিজের শরীর থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে রক্তকণিকা সংগ্রহ করেন এবং পরবর্তীতে অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক কৌশল ব্যবহার করে সেগুলোকে একটি ভ্রূণীয় অবস্থায় রূপান্তরিত করেছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, এই ক্লোনটিকে কাজে লাগিয়ে তিনি ভবিষ্যতে শরীরের নতুন অঙ্গ তৈরি করতে পারবেন, নতুন বিভিন্ন ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে পারবেন এবং নিজের শরীরে তরুণ কোষ প্রবেশ করাতে সক্ষম হবেন। সহজ কথায়, নিজেকে চিরতরে তরুণ ও রোগমুক্ত রাখতে নিজেরই ক্লোন ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছেন এই প্রযুক্তি জায়ান্ট।

বিরল রোগ থেকে সুরক্ষার নতুন কোনো উপায়?
সম্প্রতি ব্রায়ানের শরীরে অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস (AIG) নামক একটি বিরল রোগ ধরা পড়েছে। এই রোগটি মূলত তখনই বাসা বাঁধে, যখন শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত পাকস্থলীর ভেতরের সুরক্ষামূলক আস্তরণকে আক্রমণ করতে শুরু করে। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, এই রোগের কোনো নির্দিষ্ট বা স্থায়ী নিরাময় নেই। ব্রায়ানের জোরালো দাবি, তাঁর এই অভিনব পরীক্ষাটি শুধু তাঁর এই বিরল রোগই নিরাময় করবে না, বরং বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে রুখে দিতেও দারুণভাবে সাহায্য করবে।

চিকিৎসা বিপ্লব নাকি নিছক প্রচারের আলোয় থাকার কৌশল?
তথ্য জানলে অবাক হবেন যে, ব্রায়ান জনসন তাঁর বার্ধক্য-রোধ এবং স্বাস্থ্য দীর্ঘায়ু কর্মসূচির পেছনে প্রতি বছর প্রায় ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২০ কোটি টাকা) জলের মতো খরচ করেন। তাঁর এই সর্বশেষ দাবিটি সামনে আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকমহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। তাঁর অন্ধ সমর্থকরা এটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী অলৌকিক ঘটনা বলে প্রশংসা করছেন, অন্যদিকে কঠোর সমালোচকরা একে একটি ভয়াবহ বৈজ্ঞানিক বাড়াবাড়ি এবং নিছক প্রচারের কৌশল বলে অভিহিত করেছেন। এই পরীক্ষাটি কি সত্যিই মানুষকে অমরত্বের কাছাকাছি নিয়ে যাবে, নাকি নিছক প্রচারের চটক হিসেবেই হারিয়ে যাবে, তা ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে।

মানুষকে কি অতীতে কখনো ক্লোন করা হয়েছে?
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ২০০২ সালের ২৭শে ডিসেম্বর ব্রিজিট বোইসেলিয়ার নামের এক বিজ্ঞানী ‘ইভ’ নামের একটি মেয়েকে ক্লোন করার দাবি করে বিশ্বজুড়ে তুমুল চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে যখন এর সত্যতা প্রমাণের জন্য জোরালো তদন্ত ও প্রমাণ খোঁজা হয়, তখন সেই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়। একই ধরনের দাবি তাইওয়ানের বিজ্ঞানীরাও করেছিলেন, কিন্তু তাঁদের দাবিও শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি। বাস্তব সত্য হলো, আজ পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক ইতিহাসে কোনো জীবিত মানুষকে ক্লোন করা সম্ভব হয়নি।

মানব ক্লোনিং আজও অসম্ভব ও নিষিদ্ধ কেন?
মানুষের ক্লোনিংয়ের পথে প্রধানত দুটি বড় বাধা রয়েছে—কঠোর আইন এবং নৈতিক উদ্বেগ। মানুষের প্রতিরূপ বা ক্লোন তৈরি করাকে বিশ্বজুড়ে মৌলিক মানব মর্যাদার সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই কারণেই জাতিসংঘ (UN) এবং ফ্রান্স, জার্মানি ও রাশিয়াসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে মানুষের ক্লোনিং সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তাহলে কি এই বিষয়ে বর্তমানে কোনো গবেষণা হচ্ছে না?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লোনিং নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা আজও জারি রয়েছে, তবে তার উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা। ক্লোনিং মূলত দুই প্রকারের হয়ে থাকে:
১) প্রজননমূলক ক্লোনিং: যার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ মানব শিশু বা মানুষ তৈরি করা হয়, যা বিশ্বজুড়ে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
২) চিকিৎসামূলক ক্লোনিং: যার মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো মারাত্মক রোগ নিরাময়ের জন্য শুধুমাত্র নির্দিষ্ট দেহকোষ তৈরি করা। এই চিকিৎসাভিত্তিক ক্লোনিং যুক্তরাজ্য ও জাপানের মতো কিছু দেশে ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের প্রকৃত প্রতিকার খোঁজার জন্য অত্যন্ত কঠোর নিয়মকানুন ও আইনি কাঠামোর অধীনে অনুমোদিত।

বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মানব ক্লোনিংয়ের ওপর কোনো কেন্দ্রীয় কঠোর আইন না থাকলেও প্রতিটি পৃথক রাজ্যের নিজস্ব কিছু আইনকানুন রয়েছে। সার্বিক দিক থেকে বিচার করলে, আজও জীবন্ত মানব ক্লোন তৈরি করা আইনত অপরাধ এবং বৈজ্ঞানিক দিক থেকেও সম্পূর্ণ অসম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *