বনকর্মীর ভেক ধরে জঘন্য কান্ড! চিত্রকূটের পাহাড়ে রাজস্থান ফেরত NEET ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড়

মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের সীমান্তে অবস্থিত পবিত্র ধর্মীয় শহর চিত্রকূটের দেবঙ্গনা উপত্যকা এলাকায় ঘটেছে এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ অপরাধের ঘটনা। বন বিভাগের কর্মচারী সেজে আসা তিনজন যুবকের বিরুদ্ধে রাজস্থানের কোটায় নিট (NEET) কোচিংরত মধ্যপ্রদেশের (সাতনা) এক ২০ বছর বয়সী ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ছাত্রীটির ১৭ বছর বয়সী সঙ্গী বন্ধু বাধা দিতে গেলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তোয়ালে দিয়ে হাত-পা বেঁধে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়।

কী ঘটেছিল সেদিন?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই তরুণী ছুটির কারণে সাতনায় নিজের বাড়িতে এসেছিলেন। এরপর চিত্রকূটে বসবাসকারী ১৭ বছর বয়সী এক পরিচিত কিশোরের আমন্ত্রণে তিনি সেখানে যান, যাঁর সঙ্গে দু’বছর আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁর বন্ধুত্ব হয়েছিল। গত বুধবার বিকেলে তাঁরা দুজনে দেবঙ্গনা উপত্যকার পাহাড়ি এলাকায় হাঁটাহাটি করছিলেন এবং মোবাইলে ছবি ও ভিডিও তুলছিলেন। সেই সময় হঠাৎই বন বিভাগের কর্মচারী বলে পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেলে চেপে তিনজন যুবক সেখানে এসে উপস্থিত হয় এবং তাঁদের অকারণে হুমকি দিতে শুরু করে।

দুষ্কৃতকারীরা ওই কিশোরকে জিম্মি করে একটি নির্জন ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়। এরপর তারা জোরপূর্বক ওই ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে অন্য একটি নিরাপদ ও আড়ালে থাকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে। এই নির্মম ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে নাবালক বন্ধুটিকে বেল্ট দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তোয়ালে দিয়ে তার হাত-পা শক্ত করে বেঁধে ঝোপের মাঝে ফেলে রাখা হয়। অপরাধ সংঘটিত করার পর অভিযুক্ত তিন যুবক দ্রুত মোটরসাইকেলে চড়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।

পুলিশের তৎপরতা ও তদন্ত:
ঘটনার আকস্মিকতায় ভেঙে পড়লেও দীর্ঘ চেষ্টার পর ওই কিশোর কোনোমতে নিজের হাত-পায়ের বাঁধন খুলে নিজেকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর মোবাইলে নেটওয়ার্ক ফিরে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে জরুরি নম্বর ১১২-তে ফোন করে সমস্ত ঘটনা পুলিশকে জানায়। খবর পেয়েই চিত্রকূট থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়কেই উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাঁদের প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, অপরাধের পর তিনজন সন্দেহভাজন একটি বাইকে চড়ে পালিয়ে যাচ্ছিল।

মামলার গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা বিচার করে চিত্রকূট পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ তৎপর হয়ে উঠেছে। চিত্রকূটের পুলিশ সুপার (এসপি) অরুণ কুমার সিং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ভুক্তভোগী তরুণীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অত্যন্ত কঠোর ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যে পুলিশের দুটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করে தீவிர জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। পাশাপাশি, পলাতক বাকি অভিযুক্তদেরও খুব শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *