রাজ্য পুলিশের ডিজির অফিসে চরম কাণ্ড! সার্ভিস রিভলভার দিয়ে নিজেকে শেষ করলেন হেড কনস্টেবল

রাজ্য পুলিশের ডিজির অফিসে গিয়ে সার্ভিস রিভলভার দিয়ে নিজেকে গুলি করে আত্মঘাতী হলেন এক হেড কনস্টেবল। গুলিশব্দে ঘটনাস্থলে কর্মীদের মধ্যে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। শৌচালয়ে গিয়ে পুলিশকর্মীরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং দ্রুত শীর্ষ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। সাইফাবাদ থানার আধিকারিকের রিপোর্ট অনুযায়ী, নলগোণ্ডা জেলার চিটওয়ালা মণ্ডলের ভেলিমিনেডু এলাকার বাসিন্দা ওই হেড কনস্টেবল ভিরুকোন্ডালু স্বামী (৪১) দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ‘গ্রেহাউন্ডস’ (Greyhounds) বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং হায়দরাবাদের লাঙ্গার হাউসে বসবাস করতেন।
পারিবারিক অশান্তি ও ঋণের পাহাড়:
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২ জুলাই থেকে তিনি ডিজিপি অফিসে ‘শো গার্ড’-এর দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর স্ত্রী মৌনিকা এবং হরি ও মণি নামে দুটি সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি হায়াতনগরে একটি বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করার সুবাদে তিনি প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, জুয়া খেলতে গিয়ে আরও ১০ লক্ষ টাকার ঋণের বোঝা চাপে তাঁর কাঁধে। এই ঋণ শোধ করার জন্য তিনি জমি বিক্রি করতে চাইলেও পরিবারের সদস্যরা তাতে বাধা দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে গত তিন মাস ধরে তাঁর সঙ্গে পরিবারের বদানুবাদ লেগেই ছিল। পুলিশ মহলে সুনাম থাকা সত্ত্বেও এবং একজন ভালো ভলিবল খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত হলেও চরম মানসিক চাপের জেরে তিনি এই পথ বেছে নেন। এর আগে গত বছর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের হোয়াটসঅ্যাপে তিনি চরম পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন।
উদ্ধার সুইসাইড নোট:
ঘটনাস্থল থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্ত্রীর উদ্দেশে তাতে লেখা ছিল, “আমি তোমার সঙ্গেই বেঁচে থাকতে চাই। কিন্তু ঈশ্বর আমাকে আর বাঁচতে দিচ্ছেন না। এই সিদ্ধান্ত একান্তই আমার।” পরিবারের উদ্দেশে তিনি আরও লেখেন, “এখন যে জীবন কাটাচ্ছি, তা তোমাদেরই দেওয়া। সব দোষ আমারই, আমার স্ত্রী বা সন্তানদের কোনো দোষ নেই।” বুধবার রাতে এই চিঠি লেখা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সাইফাবাদ পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত একটি মামলা রুজু করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।