এক জায়গায় আটকে দানবীয় মেঘ! চরম বিপদের মুখে কোন কোন জেলা? জারি লাল সতর্কতা!

প্রায় স্থির একটি বায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণাবর্তের জেরে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চলেছে গুজরাট। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া আধিকারিকদের সতর্কবার্তা, এই ধীরগতির সিস্টেমের দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে সৌরাষ্ট্র, আহমেদাবাদ এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণাবর্তটির গতিপ্রকৃতি অত্যন্ত শ্লথ এবং এটি লাগাতার প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প টেনে আনছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাত ২টোর পর থেকে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়বে এবং সকাল পর্যন্ত একাধিক স্থানে তা একটানা বজায় থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
সৌরাষ্ট্রে বন্যার সর্বোচ্চ ঝুঁকি
আবহাওয়াবিদদের মতে, সৌরাষ্ট্র অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেখানে রাত পর্যন্ত আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বর্তমান হারে একটানা বৃষ্টি চলতে থাকলে নিচু গ্রামগুলিতে আকস্মিক বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এবং নদ-নদীগুলির জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ধরনের স্থির ঘূর্ণাবর্ত অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়, কারণ সেগুলি দ্রুত সরে না গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একই এলাকার ওপর অবস্থান করে এবং একটানা ভারী বৃষ্টিপাত ঘটায়। এর ফলে বন্যা ও জল জমার ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়।
ভারী রাতের বৃষ্টির আশঙ্কায় আহমেদাবাদ
আহমেদাবাদেও মধ্যরাতের পর তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির মেঘ রাজ্যে স্থায়ী হতে পারে, যার জেরে ব্যাপক জলমগ্নতা, যান চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং স্থানীয় স্তরে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়ার তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর দীর্ঘস্থায়ী হবে না, বরং ভোররাতের দিকে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে বা উঁচু জায়গায় সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরদার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, জরুরি পরিষেবা দলগুলি সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকলেও সাধারণ মানুষকে ‘অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ’ এড়াতে, জলমগ্ন রাস্তা এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতা বার্তা নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।