রাজধানীতে চরম উত্তেজনা! সংসদের সামনে নিহতের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের ওপর পেলেট গান চালানোর অভিযোগ

দিল্লিতে গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ এবং পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী বা CRPF-এর পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যের পুরো তথ্য খতিয়ে দেখতে এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর কর্মীরা আদৌ ওই অপারেশনে পেলেট গান ব্যবহার করেছিলেন কি না, তা যাচাই করতেই এই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের মতো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্যই সিআরপিএফ-এর এই বিশেষ বাহিনী ‘র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স’ (RAF) গঠন করা হয়েছিল। একই সঙ্গে জানা গেছে, যন্তর মন্তরে মোতায়েন থাকা জওয়ানদের স্পষ্টভাবে পেলেট গান ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। বর্তমানে সেখানে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ব্যানারে নিট (NEET) পেপার লিক ও পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং দুর্নীতির প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। পেলেট গানের আঘাতে আহত অন্তত তিনজনগত ২০ জুলাই পুলিশের ক্র্যাকডাউনের সময় পেলেট বা ছররা গুলির আঘাতে গুরুতর আহত হন অন্তত তিনজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে দু’জন শিক্ষার্থী এবং একজন সাংবাদিকও রয়েছেন।সাহিল লোচব (১৯): দিল্লির এআইএমএস (AIIMS) ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীর ডান চোখে পেলেট বিদ্ধ হয়েছে এবং তাঁর চোখের দৃষ্টি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ইরশাদ শেখ (২৫): গুরুগ্রামের এই বাসিন্দা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।আউটলুক পত্রিকার সাংবাদিক (২৮): পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পেলেট এবং শারীরিক মারধরের শিকার হন ওই সাংবাদিক। সাফদরজং হাসপাতালের মেডিকেল রিপোর্টেও তাঁর শরীরে পেলেট আঘাত হানার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।দিল্লি পুলিশের প্রাথমিক অস্বীকার ও সিআরপিএফ-এর অবস্থানএই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসার আগে অবশ্য দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর পেলেট গান ব্যবহারের সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে একাধিক ব্যক্তির শরীরে পেলেট আঘাত হানার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই চাপের মুখে পড়ে CRPF। সিআরপিএফ-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা পুরো ঘটনার প্রতিটি দিক অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। এই মুহূর্তে এ বিষয়ে মন্তব্য করা তাড়াহুড়ো হবে।” সূত্র মারফত জানা গেছে, ঘটনার দিন র্যাব ও দিল্লি পুলিশ যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামলেও প্রথম পর্যায়ে পেলেট ব্যবহারের বিষয়টি বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গোচরে ছিল না। তবে রাডার বা শক ব্যাটন ও পেলেট গান যে র্যাব-এর দাঙ্গা দমন সরঞ্জামের অংশ, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বলপ্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।