“এটি কেবল অনশনের সমাপ্তি নয়…” ২৬ দিনের অনশন ভাঙার পরই বিস্ফোরক সোনম ওয়াংচুক!

অবশেষে অবসান ঘটল ২৬ দিনের ঐতিহাসিক অনশনের। বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে অনশন ভাঙলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে জল ও ফলের রস খেয়ে অনশন শেষ করার পর ওয়াংচুক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এটি কেবল একটি অনশনের সমাপ্তি নয়, বরং সরকারের জবাবদিহির প্রকৃত সূচনা।

একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি জানান, প্রায় দুদিনের দীর্ঘ “দরকষাকষির” পরই সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আশ্বাস মিলেছে এবং তারপরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সরকারের কাছ থেকে যে ৩টি প্রধান আশ্বাস পেয়েছেন ওয়াংচুক
সরকারের শীর্ষ স্থানীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর ওয়াংচুককে যে প্রধান তিনটি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি হলো:

সংসদে আলোচনা: ত্রুটিপূর্ণ পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং সেই সম্পর্কিত জবাবদিহির বিষয়টি আগামী দিনে সংসদে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হবে।

ক্ষতিপূরণ: সাম্প্রতিক ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী চরম পদক্ষেপ অর্থাৎ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, সেইসব হতভাগ্য পরিবারগুলিকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

মামলা প্রত্যাহার: দিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদকারী এবং গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি মামলা দায়ের করা হবে না।

হাসপাতাল থেকে স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা নিজেই সরকারের দেওয়া এই আশ্বাসগুলি পড়ে শোনাচ্ছেন। অনশন ভাঙার পর ওয়াংচুক তাঁর পাশে থাকা স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর দিকে তাকিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, “গীতাঞ্জলি সবসময় আমার পাশে থেকেছে।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন থেকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেছিলেন ওয়াংচুক। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সাফদরজং হাসপাতাল হয়ে গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এই আইনি লড়াই ও চিকিৎসার নেপথ্যে তাঁর স্ত্রী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

এদিকে, সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহারের খবর সামনে আসার পরই তাঁকে দ্রুত স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স (X)-এ এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “আমি সোনমজিকে অনুরোধ করছি যেন তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলেন এবং দ্রুত সুস্বাস্থ্য ফিরে পান।” পাশাপাশি, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন আনা, দোষীদের কারাগারে পাঠানো এবং ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের মাধ্যমে কড়া পদক্ষেপ করার আশ্বাসও পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *