চাকরির মেয়াদ ফুরোচ্ছে ৩১ আগস্ট, অথচ ভেরিফিকেশনের ডেট সেপ্টেম্বরে! চরম বিপাকে চাকরিহারা শিক্ষকরা

দীর্ঘ আইনি লড়াই ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার জট কাটতে চলেছে। আগামী ৩০ জুলাই থেকে নির্দিষ্ট তিনটি বিষয়ে শিক্ষক পদের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের নথিপত্র যাচাই বা ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের কাজ শুরু হওয়ার নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই খুশির খবরের মাঝেই চাকরিহারা শিক্ষক মহলে চরম উৎকণ্ঠা ও ধন্দ তৈরি হয়েছে।
হঠাৎ কী নিয়ে তৈরি হয়েছে উৎকণ্ঠা?
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এক লপ্তে প্রায় ২৬,০০০ শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছিল। তাঁদেরই অনেকে পরবর্তীতে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ওই চাকরিহারাদের মধ্যে কেবল ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩১ অগস্ট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।
কিন্তু বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৩০ জুলাই থেকে ভেরিফিকেশন শুরু হলেও বহু প্রার্থী তাঁদের নথিপত্র যাচাইয়ের তারিখ পেয়েছেন সেপ্টেম্বর মাসে। অর্থাৎ, আদালতের বেঁধে দেওয়া ৩১ আগস্টের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া চলবে। ফলে এই অন্তর্বর্তী সময়ে ওই শিক্ষকদের বেতন এবং অন্যান্য আইনি সুযোগ-সুবিধার কী হবে, তা নিয়ে তীব্র ধন্দ তৈরি হয়েছে।
এসএসসি ও শিক্ষা দপ্তরের অবস্থান
এসএসসি সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে সমস্ত বিষয়ে শূন্যপদের সংখ্যা বেশি এবং প্রার্থীর সংখ্যাও অনেক বেশি, সেই বিষয়গুলিকেই প্রথম দফায় ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ আইনি পরামর্শ মেনেই এই তারিখগুলি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলিও আইনি নির্দেশিকা মেনে করা হবে।
শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট তিনটি বিষয়ের মেধা তালিকায় থাকা প্রার্থীদের তাঁদের সমস্ত আসল নথিপত্র সহ নির্দিষ্ট দিনে উপস্থিত থাকতে হবে। সেখানে প্রার্থীদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শংসাপত্র অত্যন্ত খুঁটিয়ে যাচাই করা হবে।
চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া
নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় প্রার্থীরা স্বস্তি পেলেও সময়সীমা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ কাটছে না। যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের প্রতিনিধি রাকেশ আলম এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা আশাবাদী যে বর্তমান সরকার এই প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে আদালত থেকে চাকরির মেয়াদ বা ডেট এক্সটেন্ড করে আনবে। তবে এসএসসির পাশাপাশি আমাদের নিয়োগকর্তা মধ্যশিক্ষা পর্ষদও যদি সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন না করে, তবে ৩১ অগস্টের পর থেকেই আমাদের বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” প্রার্থীদের দাবি, শুধু ভেরিফিকেশন করালেই চলবে না, আইনি জট পুরোপুরি কাটিয়ে দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে এবং যোগ্য প্রার্থীদের হাতে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র তুলে দিতে হবে।