“স্ত্রী ও শাশুড়ি মিলে বেধড়ক মারে!” মৃত্যুর আগে মোবাইলে রেকর্ড করে গেলেন যুবকের শেষ জবানবন্দি

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ করার খেসারত দিতে হলো প্রাণ দিয়ে। স্ত্রীর পরকীয়ার কথা জেনে প্রতিবাদ করায় দাম্পত্য কলহের জেরে বাপের বাড়ি চলে গেছিলেন স্ত্রী। তাঁকে বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে উল্টে মারধর ও চরম অপমানের শিকার হন এক যুবক। অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে নিগৃহীত হওয়ার পরেই অভিমানে কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই পরিযায়ী শ্রমিক। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের মালঞ্চা আশ্রমপাড়া এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
মৃত যুবকের নাম গোপাল মাহাতো (৩১)। তাঁর বাড়ি বালুরঘাটের মালঞ্চা আশ্রমপাড়া এলাকাতেই। এই ঘটনায় মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে বালুরঘাট থানায় স্ত্রী, শাশুড়ি, শ্বশুর ও স্ত্রীর কথিত প্রেমিক সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সাত বছর আগে চিঙ্গিশপুর গ্রামের এক যুবতীর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল গোপাল মাহাতোর। তাঁদের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। গোপালবাবু আগে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন। তবে সম্প্রতি তিনি মালদহের একটি হোটেলে কাজ শুরু করেছিলেন। অভিযোগ, মালদহে থাকাকালীন মাঝেমধ্যেই সেখানে গিয়ে থাকতেন তাঁর স্ত্রী।
পরিবারের দাবি, সম্প্রতি অন্য এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন গোপালের স্ত্রী। এই অবৈধ সম্পর্কের কথা হাতেনাতে ধরে ফেলায় এবং স্ত্রীকে ওই যুবকের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে দেখায় প্রতিবাদ করেছিলেন স্বামী। এই নিয়ে দম্পতির মধ্যে তীব্র অশান্তি শুরু হয়। এর জেরে মালদহ থেকে ঝগড়া করে বাপের বাড়ি চলে যান স্ত্রী।
শ্বশুরবাড়িতে মারধর ও আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া
গত ১৭ জুলাই স্ত্রীকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন গোপাল মাহাতো। কিন্তু অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে বোঝানোর বদলে স্ত্রী ও শাশুড়ি মিলে তাঁকে বেধড়ক মারধর ও চরম অপমান করেন। শ্বশুরবাড়ির এই নিষ্ঠুর আচরণ সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ফিরে সেই দিনই বিষ বা কীটনাশক খেয়ে ফেলেন ওই যুবক।
পরিবারের লোকেরা টের পেয়ে তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন গোপালবাবু তাঁর আত্মীয়দের কাছে স্ত্রীর পরকীয়া এবং শ্বশুরবাড়িতে হওয়া মারধরের সমস্ত কথা জানান। মৃত যুবকের পরিজনরা সেই জবানবন্দি তাঁদের মোবাইলে ভিডিও ও অডিও হিসেবে রেকর্ড করেও রাখেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় গোপালের।
যুবকের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই তাঁর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। বালুরঘাট থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচণা দেওয়া এবং মারধরের অভিযোগে লিখিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইলে রেকর্ড হওয়া শেষ জবানবন্দি এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।