নিটকাণ্ডে উত্তাল সংসদ! শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা ও মোদীর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে মকর দ্বারের সামনে INDIA জোটের বিক্ষোভ

NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দুর্নীতি কাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। এই বিতর্ক ও উত্তাপের আঁচ গিয়ে পড়েছে খোদ সংসদ ভবনেও। নিটকাণ্ডের জেরে কার্যত অচল হয়ে রয়েছে সংসদের বাদল অধিবেশন। এই প্রেক্ষাপটে আজ সকাল সাড়ে দশটায় সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিরোধী INDIA জোটের সাংসদরা।
বিরোধীদের তিন দফা দাবি
এর আগে গত বৃহস্পতিবারও এনডিএ (NDA) এবং ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের সাংসদরা সংসদের মকর দ্বারের সামনে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। বিরোধীদের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যতদিন না তাঁদের দাবি মানা হচ্ছে, ততদিন লড়াই জারি থাকবে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাদের অফিসিয়াল ‘এক্স’ (X) হ্যান্ডেলে বিরোধীদের তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়েছে—
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ওপর পুলিশি হিংসা ও দমনপীড়নের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
দেশের যুব সমাজের কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে வேண்டும்।
খাড়গের নিশানায় প্রধানমন্ত্রীর ‘ভিডিও বার্তা’
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে নিটকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যরাতের ভিডিও বার্তার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, যখন সংসদের অধিবেশন সরাসরি চলছে, তখন বাইরে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও রেকর্ড করে একতরফা কথা না বলে প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল সরাসরি সংসদের অন্দরে এসে বিবৃতি দেওয়া।
এক্স (X) হ্যান্ডেলে খাড়গে লেখেন, “@narendramodi জি, আজ সংসদে আসার আগে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করে আসুন। প্রথমে দেশের পড়ুয়াদের কাছে ক্ষমা চান এবং যাদের নির্দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি, ব্যাটন ও পেলেট গান চালানো হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিন। তবেই আমরা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসব।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন ও ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ইঙ্গিত দিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন।
সনিয়া গান্ধীর কড়া আক্রমণ ও সম্পাদকীয় নিবন্ধ
এদিকে, কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী ‘দ্য হিন্দু’ সংবাদপত্রে একটি চাঞ্চল্যকর সম্পাদকীয় লিখে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সরকার শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের মোকাবিলা করেছে অত্যন্ত “কাপুরুষতা এবং চরম নিষ্ঠুরতার” সঙ্গে। দেশের তরুণ প্রজন্মকে “ভবিষ্যতের উত্তরাধিকারী” হিসেবে গণ্য না করে যেন “দেশের শত্রু” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুলিশি দমন-পীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করার জোরালো আর্জি জানিয়ে সনিয়া গান্ধী লিখেছেন, “এরা আমাদেরই দেশের ছেলে-মেয়ে, আমাদেরই তরুণ-তরুণী।” তাঁর লেখায় গত ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযান ও ছাত্র বিক্ষোভের দিনটিকে ভারতীয় গণতন্ত্রের একটি “কলঙ্কের দিন” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওইদিন দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে, যার ফলে বহু ছাত্রছাত্রী গুরুতর আহত হন।
নিটকাণ্ড এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী জোটের এই লাগাতার আন্দোলন সংসদ চত্বরে প্রবল রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।