ডিএনএ টেস্টে ফাঁস আসল সত্য! পকসো মামলায় অভিযুক্ত নির্দোষ যুবকের এফআইআর খারিজ করল হিমাচল হাইকোর্ট

হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্ট একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল আইনি মামলায় এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে। আদালত ধর্ষণ এবং পকসো (POCSO) আইনে অভিযুক্ত এক নিরপরাধ যুবকের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর (FIR) সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে। মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি রাকেশ কাইন্থালার একক বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, বৈজ্ঞানিক প্রমাণে যখন অভিযুক্তের নির্দোষিতা সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত হয়, তখন তাকে বিনা কারণে দীর্ঘ ফৌজদারি বিচারের মানসিক ও আইনি নির্যাতন সহ্য করতে বাধ্য করা যায় না।

মামলার সূত্রপাত ও অভিযোগ
বিলাসপুর জেলায় ২০২৩ সালে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল। এক নাবালিকা ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিলাসপুর জেলার মহিলা থানায় আয়ুশ নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩৭৬ (ধর্ষণ), ৫০৬ (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) এবং শিশু যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ আইনের (POCSO) ৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।

ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছিলেন যে, ২০২৩ সালের ৯ মার্চ আয়ুশ তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁকে ধর্ষণ করে এবং কাউকে কিছু জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে ওই নাবালিকা গর্ভবতী হন এবং একটি সন্তানের জন্ম দেন।

ডিএনএ টেস্টে চাঞ্চল্যকর মোড় ও আসল সত্য প্রকাশ
পুলিশি তদন্ত চলাকালীন মামলার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যায় যখন বৈজ্ঞানিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সামনে আসে। তদন্তের অংশ হিসেবে ভুক্তভোগী, নবজাতক এবং অভিযুক্ত আয়ুশের ডিএনএ নমুনা ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে (FSL) পাঠানো হয়েছিল।

এফএসএল (FSL)-এর রিপোর্টে দেখা যায়, শিশুটির ডিএনএ-র সাথে অভিযুক্ত আয়ুশের ডিএনএ কোনোভাবেই মেলেনি। এরপর তদন্তকারীরা অন্যান্য সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করলে এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পায়—ভুক্তভোগীর আপন ভাই-ই ওই নবজাতকটির আসল জৈবিক বাবা বলে প্রমাণিত হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবর্তিত জবানবন্দি ও আদালতের রায়
ফরেনসিক ল্যাবরেটরির এই অপরিবর্তনীয় বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর, ভুক্তভোগী বাধ্য হয়ে পুলিশের কাছে একটি সম্পূরক জবানবন্দি (Supplementary Statement) দাখিল করেন। নতুন জবানবন্দিতে তিনি স্বীকার করেন যে, আয়ুশ নয়, বরং তাঁর নিজের ভাই তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছিল।

এই অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং ভুক্তভোগীর পরিবর্তিত স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে হাইকোর্ট এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, আয়ুশের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা ছিল। এর ফলস্বরূপ, আদালতের নির্দেশেই আয়ুশের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরটি পুরোপুরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *