৩ বছরে ১৫০০ ভুয়ো বোমাতঙ্ক! আমেরিকা থেকে চেন্নাই নামতেই পুলিশের জালে নামী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার!

ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে গত তিন বছর ধরে দেদার ভুয়ো বোমাতঙ্কের ইমেল পাঠিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগে এক মার্কিন প্রবাসী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে আটক করেছে তামিলনাড়ু অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)। ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরেই পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ব্যক্তির নাম শরৎ সুব্রহ্মণ্যম শঙ্কর। তাঁর বাড়ি তামিলনাড়ুর তিরুনেলবেলি জেলার আমবাসমুদ্রমে। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে একটি সফটওয়্যার সংস্থায় চাকরি করতেন। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বারবার আসা ভুয়ো বোমাতঙ্কের হুমকি ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

ডিজিটাল ভুলেই ফাঁস আসল পরিচয়
তদন্তকারী অফিসাররা জানান, তামিলনাড়ু সাইবার ক্রাইম উইংয়ের পুলিশ সুপার আই শাহনাজের নেতৃত্বে এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। সমস্ত পরিচয় গোপন করতে এবং ইমেলগুলি বিদেশি সার্ভারের মাধ্যমে পাঠাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি এনক্রিপশন প্ল্যাটফর্ম, ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (VPN) ও ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করতেন। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন তিনি একটি হুমকির ইমেলে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকেই ভুলবশত উত্তর দিয়ে ফেলেন, যা তাঁর ডিজিটাল ট্রেইল বা সূত্র রেখে যায়। আর এই সামান্য ভুলেই তাঁকে চিহ্নিত করতে সফল হয় পুলিশ।

শত শত মামলার বোঝা
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তামিলনাড়ু জুড়েই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শতাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে শুধু তামিলনাড়ু এটিএস-ই ৩৩টি মামলা নথিভুক্ত করেছে। বাকি অভিযোগগুলি জমা পড়েছে বিভিন্ন শহরের পুলিশ ইউনিট ও সাইবার ক্রাইম উইংয়ের কাছে।

এই ভুয়ো ইমেলগুলির নিশানায় ছিল মূলত বাণিজ্যিক বিমান, স্কুল, কলেজ (যেমন আন্না বিশ্ববিদ্যালয়), বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক, অবসরপ্রাপ্ত ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো আধিকারিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। প্রতিটি ভুয়ো হুমকির পরেই বিমান তল্লাশি, ক্যাম্পাস খালি করা এবং বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াডের তৎপরতার মতো বিশাল নিরাপত্তা অভিযান চালাতে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন। তবে প্রতিটি ঘটনাই শেষ পর্যন্ত গুজব বলে প্রমাণিত হয়।

চেন্নাই বিমানবন্দরে আটকের পর সিনিয়র অফিসারদের একটি দল তাঁকে জেরা করে এবং পরবর্তীতে ফোর্ট থানায় হস্তান্তর করে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এই মামলার সম্পূর্ণ জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এর নেপথ্যে অন্য কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *