“রাজনীতি বুঝি না, কিন্তু শিক্ষা সবার!” নিট-কাণ্ডে প্রথমবার মুখ খুলে বিস্ফোরক সোনাজয়ী অভিনব বিন্দ্রা

দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার চরম দুর্নীতির জেরে যখন রাজপথ উত্তাল, ঠিক তখনই নীরবতা ভাঙলেন দেশের প্রথম ব্যক্তিগত অলিম্পিক সোনাজয়ী শুটার অভিনব বিন্দ্রা (Abhinav Bindra)। সাধারণত বিতর্কিত বা রাজনৈতিক বিষয় থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও, বর্তমান শিক্ষা সংকট নিয়ে এবার আর চুপ থাকতে পারেননি তিনি। সোজা কলম ধরে বর্তমান ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেছেন এই কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অভিনব বিন্দ্রার শাণিত বার্তা
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ ও চিন্তাশীল পোস্ট করে বিন্দ্রা স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, শিক্ষা কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়, এটি সমগ্র দেশের ভবিষ্যৎ। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “আমি নিজেকে কখনওই রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করিনি। কিন্তু বিশ্বাস করি, কিছু সমস্যা আমাদের সবার। শিক্ষা ঠিক তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি দেশের আসল পরিমাপ কেবল তার অর্থনীতি বা আন্তর্জাতিক সাফল্যের ওপর নির্ভর করে না, বরং তরুণ প্রজন্মের জন্য তারা কী ধরনের সুযোগ তৈরি করছে, সেটাই আসল মাপকাঠি।”
ছাত্র আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনার আবহে বিন্দ্রা এমন এক সুস্থ ও দুর্নীতিমুক্ত পরিকাঠামোর দাবি তুলেছেন, যা তরুণ প্রজন্মের আত্মবিশ্বাস জোগাবে এবং কৌতূহলকে লালন করবে।
প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা ও ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের ঘোষণা
ছাত্র বিক্ষোভের তীব্র আঁচ গিয়ে পড়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। দেশজুড়ে চলা এই ডামাডোলের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডেলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কাউকে রেয়াত করা হবে না।
তিনি লেখেন, “আমাদের যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই! প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
যন্তর মন্তরে থামছে না আন্দোলন
প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পরেও অবশ্য রাজধানীর রাজপথের উত্তাপ একটুও কমেনি। যন্তর মন্তরে লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা CJP। সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান ও প্রতিবাদের মাধ্যমে তাঁরা এক ও অভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এই ইস্তফা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।