“একলা কল্যাণই একশোটা বিজেপির জন্য কাফি!” গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে একা বিক্ষোভ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য ও অশালীন শব্দ ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগে লোকসভা থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাদল অধিবেশন থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরের দিনই সংসদ ভবন চত্বরে দেখা গেল এক নাটকীয় ও ব্যতিক্রমী ছবি। একা একাই গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায় তাঁকে।

প্ল্যাকার্ড গলায় একা কল্যাণ, স্লোগানে মুখরিত সংসদ চত্বর
বুধবার লোকসভা থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সংসদ ভবন চত্বরে একাই বিক্ষোভ দেখান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গলায় ঝোলানো প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “ভাজপাকে সাথ সংসদ মে, ২০ গদ্দার মওজুদ হ্যায়”। সংসদ ভবনের সিঁড়িতে কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো বা বসে একাই এই স্লোগান তুলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তিনি।

গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বলেন, “একা এই কল্যাণ ব্যানার্জিকেই বিজেপি ভয় পায়। একলা কল্যাণ ব্যানার্জি ইজ এনাফ ফর দিস বিজেপি পিপল। ওরা জানে যে এই লোকটাকে বের করে রাখতে পারলে এখন অন্তত একটু নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে। আমি একলাই কাফি আছি। লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধেও যেমন চলবে, তেমনই লড়াই চলবে এই গদ্দার ও বেইমানদের বিরুদ্ধেও।”

কী কারণে সাসপেনশন?
চলতি বাদল অধিবেশন চলাকালীন মহিলা সাংসদদের অসম্মান এবং গালিগালাজ করার অভিযোগ তোলেন এনসিপিআই-তে (NCPI) মিশে যাওয়া বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা। স্বয়ং এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এই বিষয়ে স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব আনেন সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ অর্জুন রাম মেঘওয়াল। ধ্বনিভোটে সেই প্রস্তাব পাশ হওয়ার পরেই বাদল অধিবেশন থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিদ্রোহী সাংসদরা।

বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দলীয় ক্ষোভ ও কল্যাণের কড়া বার্তা
সাসপেনশনের পরেই বিদ্রোহী ও দলত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে একদা সতীর্থদের তুলোধোনা করে তিনি বলেন, “যাকে মাটির থেকে তুলে নিয়ে এসে টিকিট দিয়েছি, তাঁকে কেউ চিনত নাকি? দল আমাকেও প্রশ্ন করছে, কেন এমন একটা মেয়েকে টিকিট দিয়েছি! আমাকেও ঘরের কথা শুনতে হচ্ছে। সাসপেনশন বা ধমকচমক দেখিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকানো যাবে না।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *