‘মৃত্যু বলে কিছু হয় না, ওটা একটা ভ্রম মাত্র!’ সন্তান প্রসবের সময় মৃতুপুরী থেকে ঘুরে এসে বিস্ফোরক দাবি মহিলার

মৃত্যুর পর মানুষের ঠিক কী হয়? স্বর্গ বা নরক কি সত্যিই কোথাও রয়েছে, নাকি তা শুধুই মানুষের কল্পনার অংশ? এই প্রাচীন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মাঝেই স্কটল্যান্ডের বাসিন্দা জেন ডসন (Jane Dawson) নামক এক মহিলা মৃত্যুর পরের পৃথিবী (Afterlife) ও অন্য জগৎ নিয়ে এমন এক চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক দাবি করেছেন, যা বিশ্বজুড়ে মানুষকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
২৪ বছর আগের সেই রহস্যময় অভিজ্ঞতা
জেন ডসনের দাবি অনুযায়ী, ২৪ বছর আগে তিনি যখন তাঁর ছেলের জন্ম দিচ্ছিলেন, সেই সময় জটিল গর্ভাবস্থার কারণে কয়েক মুহূর্তের জন্য তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং ক্লিনিকালি তিনি ‘মারাও’ গিয়েছিলেন। সেই ক্ষণস্থায়ী মৃত্যুর মুহূর্তে তাঁর আত্মা শরীর ছেড়ে পৃথিবীর বাইরে সম্পূর্ণ অন্য এক জগতে পৌঁছে যায়। সেখানে তাঁর সাক্ষাৎ হয় তাঁর প্রয়াত বাবার সঙ্গে।
হাসপাতালে সন্তান প্রসবের সময় জেন শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই হঠাৎ তাঁর শরীরের সমস্ত যন্ত্রণা জাদুকরী উপায়ে উধাও হয়ে যায়। তিনি অনুভব করেন, তাঁর আত্মা শরীর ছেড়ে বেরিয়ে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। তখনই তিনি এক পরিচিত ও আপন শক্তির উপস্থিতি টের পান—সেটি ছিল তাঁর বাবার আত্মা, যিনি জেনের গর্ভবতী হওয়ার মাত্র তিন মাস আগে মারা গিয়েছিলেন।
স্বর্গ সম্পর্কে বাবার বার্তা ও পুনর্জন্মের দাবি
জেনের দাবি, সেই আধ্যাত্মিক সংযোগের সময় তাঁদের দুই আত্মার মিলন ঘটে। তাঁর বাবা কোনো কথা না বলেই নিজের চিন্তা, অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং গভীর জ্ঞান জেনের আত্মার মধ্যে সঞ্চারিত করেন। পাশাপাশি বাবা তাঁকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, জেনের পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় এখনই হয়নি এবং তাঁকে জীবিত ফিরে গিয়ে সন্তানের জন্ম দিতে হবে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, জেনের বাবা তাঁকে স্বর্গ সম্পর্কে একটি বড় সত্য জানান। জেনের কথায়, ধর্মগ্রন্থে যেভাবে সোনা-রূপার স্বর্গরাজ্যের বর্ণনা দেওয়া হয়, বাস্তবে সেই ধরনের নির্দিষ্ট কোনো ‘স্বর্গ’ বা ‘নরক’ বলে কিছু নেই। স্বর্গ বা নরক কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক স্থান নয়, বরং এটি একটি বিশেষ অনুভূতি বা চেতনার উচ্চস্তর। মানুষ মারা যাওয়ার পর কেবল তার নশ্বর দেহ ত্যাগ করে এবং এমন এক উচ্চতর জগতে প্রবেশ করে, যেখানে সমস্ত আত্মা একসঙ্গে অবস্থান করে।
জেন আরও দাবি করেন, ঘটনার কয়েক বছর পর তিনি খেয়াল করেন তাঁর ছেলেই আসলে তাঁর প্রয়াত বাবার পুনর্জন্ম! তাঁর দাবি, ছেলে দেখতে অবিকল তার দাদুর অর্থাৎ জেনের বাবার মতো হয়েছে। এমনকি, সে কথা বলতে শেখার পর থেকেই তার দাদুর মতো একজন পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছে। জেনের মতে, এই অদ্ভুত ও অলৌকিক অভিজ্ঞতা তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। আগে তিনি মৃত্যুকে ভীষণ ভয় পেতেন, কিন্তু এখন তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে জীবন কখনো সত্যিকার অর্থে শেষ হয় না, আর মৃত্যু হলো কেবলই একটি সাময়িক ভ্রম।