‘দিল্লির আন্দোলন অত্যন্ত যৌক্তিক, শিক্ষার্থীদের কুর্নিশ জানাই!’ পুলিশি লাঠিচার্জের বিরুদ্ধে সোচ্চার অঞ্জন দত্ত

দিল্লির যন্তরমন্তরে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে চলা আন্দোলন যখন সারা দেশের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়, ঠিক তখন বাংলার শিল্পমহল থেকেও একের পর এক প্রতিবাদের সুর জোরালো হচ্ছে। শ্রীলেখা মিত্র এবং ঋদ্ধি সেনের পর এবার দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের উপর পুলিশি লাঠিচার্জ এবং দমনপীড়নের বিরুদ্ধে অত্যন্ত জোরালোভাবে মুখ খুললেন সদ্য ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত পরিচালক তথা অভিনেতা অঞ্জন দত্ত।
কী বললেন অঞ্জন দত্ত?
সম্প্রতি ‘চালচিত্র এখন’ সিনেমার জন্য সেরা ফিচার ফিল্ম বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন অঞ্জন দত্ত। এরই মধ্যে রাজধানীর ছাত্র আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বুধবার একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওতে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে পরিচালক বলেন, “আমি কখনোই কোনো ধরনের রাজনীতি বা রাজনৈতিক দলের ওপর আস্থা রাখিনি। দলীয় রাজনীতিতে আমার কখনোই বিশ্বাস ছিল না। আমি কোনো দলের সদস্য হইনি, কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিইনি বা কোনো মিছিলেও অংশ নিইনি। ছাত্রজীবন থেকেই আমি এসব থেকে দূরে থেকেছি। আমার বয়স এখন ৭৩ বছর… জীবনে অনেক কিছুই দেখেছি, কিন্তু কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডায় কখনোই বিশ্বাস করিনি। আমি অস্তিত্ববাদে বিশ্বাসী; আমি ব্যক্তির শক্তিতে বিশ্বাস করি, সমষ্টির শক্তিতে নয়। কিন্তু আজ আমাকে স্বীকার করতেই হচ্ছে যে, দিল্লির যন্তরমন্তরে যা ঘটছে এবং শিক্ষার্থীরা যে দাবির পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তা অত্যন্ত যৌক্তিক। আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।”
শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক লড়াইকে কুর্নিশ
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে সম্পূর্ণ সাংবিধানিক ও অহিংস বলে উল্লেখ করে অঞ্জন দত্ত আরও বলেন, “আমি নির্বাচিত সরকারের ওপর আস্থা রাখি। আমি সংবিধানে বিশ্বাস করি এবং এখনও করি। যখন দেখি যে আমার দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী—হয়তো লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী—এমন একটি বিষয়ের জন্য ন্যায়বিচার চাইছে যা অত্যন্ত পবিত্র, আর তা হলো শিক্ষা; যখন তারা শিক্ষার ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছে এবং তা করছে গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ও অহিংস উপায়ে—তখন আমাকে তাদের কুর্নিশ করতেই হয়।”
দেশের তরুণ প্রজন্মের এই সাহসিকতার প্রশংসা করে তিনি আরও যোগ করেন, একজন ভারতীয় হিসেবে তাঁকে গর্ববোধ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানান। তাঁর কথায়, “ভারতীয় হতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। এমন একটি দেশে বাস করতে পেরে আমি গর্বিত যেখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার ক্ষেত্রে ঘটে চলা যেকোনো অবিচারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। আমি তাদের সবাইকে স্যালুট জানাই এবং অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।”