‘হাতে লাঠি, তরোয়াল নিয়ে হামলা!’ যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে ভয়াবহ সংঘর্ষ, আহত একাধিক পুলিশকর্মী

নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে চলা আন্দোলন এবার চরম হিংসাত্মক রূপ নিল। বুধবার সন্ধ্যায় দিল্লির যন্তরমন্তর (Jantar Mantar) এলাকার কাছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ রণক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া ইট-পাটকেল ও কাচের বোতলের আঘাতে দুই এসিপি-সহ বেশ কয়েকজন দিল্লি পুলিশকর্মী (Delhi Police) গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষে বাধ্য হয়ে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) ও দিল্লি পুলিশ।

কীভাবে ছড়াল হিংসা?
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় যন্তরমন্তরে জমায়েত হওয়া হাজার হাজার বিক্ষোভকারী হঠাৎই ব্যারিকেড ভেঙে তোলস্তয় মার্গের দিকে এগোতে শুরু করলে আসল গোলমাল সূত্রপাত হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন থাকা পুলিশ ও র‍্যাফ কর্মীদের লক্ষ্য করে হঠাৎই নির্বিচারে ইট ও জলের বোতল ছুড়তে শুরু করে উত্তেজিত জনতা।

পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যেতে দেখলে পুলিশ প্রথমে অত্যন্ত সংযতভাবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় আন্দোলনকারীরা আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। পুলিশের বিস্ফোরক দাবি, এই বিশাল ভিড়ের মধ্যে বহু আন্দোলনকারীর হাতে লাঠি, ধারালো তরোয়াল এবং অন্যান্য বিপজ্জনক অস্ত্রও দেখা গেছে। এমনকি পুলিশকে লক্ষ্য করে একের পর এক বড় আকারের পাথরও ছোঁড়া হতে থাকে।

কাঁদানে গ্যাস ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
পুলিশকর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষা করতে এবং হিংসাত্মক জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে আত্মরক্ষার্থে শেষ পর্যন্ত সীমিত বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভিড় সরাতে পরপর দুই থেকে তিন রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় র‍্যাফ ও দিল্লি পুলিশ। টিয়ার গ্যাসের তীব্র জ্বালায় শেষমেশ পিছু হটতে বাধ্য হয় বিক্ষোভকারীরা।

কয়েক ঘণ্টার দীর্ঘ ও কঠিন প্রচেষ্টার পর পুলিশ পুরো যন্তরমন্তর চত্বর খালি করতে সক্ষম হয় এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দিল্লি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে। তবে এলাকায় নতুন করে যাতে আর কোনও উত্তেজনা না ছড়ায়, তার জন্য যন্তরমন্তর ও তার সংলগ্ন প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন রাখা হয়েছে। এই violent হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং কীভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *