পরপর দুই কন্যাসন্তান! দু’মাসের শিশুকে মেরে জঙ্গলে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ বাবা ও ঠাকুর্দার বিরুদ্ধে, গ্রেফতার ২

পরপর দুই কন্যাসন্তান জন্মের জেরে নৃশংস কান্ড! মাত্র দু’মাসের এক শিশুকন্যাকে মেরে বাড়ি ও জঙ্গলের পাশে মাটি চাপা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল তার বাবা ও দাদুর বিরুদ্ধে। বুধবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলের মামুদপুর এলাকায়। প্রতিবেশীদের অভিযোগে পুলিশ মৃত শিশুর বাবা ও দাদুকে গ্রেফতার করেছে এবং মাটি খুঁড়ে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্যারাকপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

ঘটনার পটভূমি ও পারিবারিক বিরোধ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জগদ্দলের মামুদপুর পঞ্চায়েতের দেবক বড়পুকুর এলাকার বাসিন্দা অপূর্ব বন্দ্যোপাধ্যায় ও সমাপ্তি বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারে এর আগেও একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। এরপর সমাপ্তি দেবী দ্বিতীয়বার সন্তানসম্ভবা হলে পরিবারের লোকজন পুত্রসন্তানের আশা করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়বারও কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ায় পরিবারের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। অভিযোগ, এই কারণে হাসপাতালে মা ও নবজাতককে দেখতেও যাননি পরিবারের কেউ।

ঘটনার বিবরণ
দ্বিতীয় সন্তানের বয়স হয়েছিল প্রায় দু’মাস। পরিবারের দাবি, গত দু’-তিন দিন ধরে শিশুটি অসুস্থ ছিল। কিন্তু বুধবার সকালেই গ্রামে রটে যায় যে, দু’মাসের ওই শিশুকন্যাকে খুন করে বাড়ির পাশের জঙ্গলে পুঁতে দিয়েছেন তার বাবা ও দাদু। খবর চাউর হতেই প্রতিবেশীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত শিশুর দাদু বিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বাবা অপূর্ব বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

ধৃতরা জেরার মুখে শিশুকন্যাটিকে কোথায় পুঁতে রাখা হয়েছে, তা পুলিশকে দেখিয়ে দেয়।

এরপর পুলিশ মাটি খুঁড়ে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

মা ও প্রতিবেশীদের বক্তব্য
প্রতিবেশীদের অভিযোগ: স্থানীয় বাসিন্দা চন্দ্রানী মণ্ডলের দাবি, “সকালবেলা খবর পাই বাচ্চাটিকে মেরে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছে। আমরা জানতে গেলে তাঁরা দাবি করেন স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু স্বাভাবিক মৃত্যু হলে কাউকে না জানিয়ে এভাবে তড়িঘড়ি পুঁতে দেওয়া হবে কেন? আমরা এই ঘটনার কঠোর তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

মায়ের দাবি: মৃত শিশুর মা সমাপ্তি বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, গত দু’-তিন দিন ধরে মেয়েটি অসুস্থ ছিল। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন মেয়ের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ। তিনি হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলেও তাঁর স্বামী ও শ্বশুর তাতে বাধা দেন এবং কোল থেকে শিশুটিকে নিয়ে গিয়ে জঙ্গলে পুঁতে দেন। তবে প্রতিবেশীদের একাংশ তাঁকে নিয়ে যে খুনের অভিযোগ তুলছেন, তা অস্বীকার করে সমাপ্তি দেবী বলেন, কোনো মা তাঁর দু’মাসের সন্তানকে নিজে মারতে পারেন না।

বর্তমানে পুলিশ ধৃত বাবা অপূর্ব বন্দ্যোপাধ্যায় ও দাদু বিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *