ইরান যুদ্ধ ও পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের জেরে তেলের বাজারে ধস! কত হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হলো সরকারি সংস্থার?

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইরান-সম্পর্কিত ভূ-রাজনৈতিক সংকটের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল বিপণন সংস্থাগুলির ওপর। ২০২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন, ২০২৬) বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL) এবং ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL)

সংস্থা দুটির লোকসানের চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান:

  • এইচপিসিএল (HPCL): চলতি বছরের জুন ত্রৈমাসিকে এইচপিসিএল ১২,২৬৫ কোটি টাকার বিশাল নিট লোকসান দেখিয়েছে। অথচ গত বছর একই ত্রৈমাসিকে কোম্পানিটি ৪,১১১ কোটি টাকা লাভ করেছিল। যদিও শোধনাগার বা রিফাইনারি থেকে রাজস্ব বেড়ে ১.৪৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, তবুও জ্বালানি বিক্রিতে হওয়া ব্যাপক লোকসান সেই মুনাফাকে সম্পূর্ণ গিলে খেয়েছে।

  • বিপিসিএল (BPCL): এই ত্রৈমাসিকে বিপিসিএল ৩,৯৬২ কোটি টাকার লোকসানের কথা ঘোষণা করেছে। টানা ১৫টি ত্রৈমাসিক লাভজনক থাকার পর এই প্রথমবার সংস্থাটি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ল। গত বছরের একই সময়ে তারা ৬,১২৪ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। ব্যবসার পরিমাণ ও রাজস্ব (১.৫৯ লক্ষ কোটি টাকা) বাড়লেও জ্বালানি বিক্রির লোকসান এড়ানো যায়নি।

হঠাৎ এত বড় ক্ষতি হওয়ার কারণ কী?

  • আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৯৫ ডলার বা তারও ওপরে পৌঁছে যায়।

  • দীর্ঘ সময় ধরে দাম না বাড়ানো: অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানিগুলি প্রায় আড়াই মাস ধরে পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজির দাম বাড়ায়নি। লোকসানেই জ্বালানি বিক্রি অব্যাহত রাখা হয়। পরবর্তীতে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে দাম লিটারপ্রতি ৭.৫০ টাকা বাড়ানো হলেও, ততক্ষণে কোম্পানিগুলির হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গিয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *