‘যুবসমাজ রক্তাক্ত হলে পুরো দেশ রক্তাক্ত হয়!’ দিল্লির পুলিশি দমনপীড়ন নিয়ে ফুঁসে উঠলেন কৌশিকী চক্রবর্তী

দিল্লির জন্তর মন্তরে ‘কোকরাকাচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে আয়োজিত ‘সংসদ চলো’ মিছিলে যোগ দেওয়া হাজার হাজার পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের ওপর দিল্লি পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহার নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। সদ্য আঠারোর গণ্ডি পেরোনো বা তার কম বয়সি পড়ুয়াদের ওপর চলা এই পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে একে একে মুখ খুলছেন দেশের নামী শিল্পীরা। অরিজিৎ সিংয়ের পর এবার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোচ্চার হলেন প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী কৌশিকী চক্রবর্তী।
কৌশিকী চক্রবর্তীর সোশাল মিডিয়া বার্তা
বুধবার সকালে নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি পিকচার কার্ড শেয়ার করে কড়া ভাষায় ক্ষোভ উগরে দেন কৌশিকী। তিনি লেখেন, “এটা আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে, আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে! তাদের ব্যবহার করা বা তাঁদের কথা না শোনা, কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। ‘তাদের কথা শোনা হোক’। ক্ষমতার অপব্যবহার দিয়ে তাঁদের চুপ করিয়ে রাখা যাবে না। ওদের রক্ত ঝরছে। আর এটা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।”
সঙ্গে হ্যাশট্যাগ #SpeakUp ব্যবহার করে তিনি আরও লেখেন, “যখন যুবসমাজ রক্তাক্ত হয়, তখন রক্তাক্ত হয় পুরো দেশ। এটাকে কখনও স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায় না। এটা রাজনীতির বিষয় নয়, এটা মানবতার প্রশ্ন।”
অরিজিতের প্রতিবাদ ও তারকাদের ভূমিকা
এর আগে নেটপাড়ার একাংশের তীব্র অভিযোগ ছিল যে, বড় তারকারা কাজ হারানোর ভয়ে দেশের এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে চুপ করে রয়েছেন। যদিও সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দেশের জনপ্রিয়তম গায়ক অরিজিৎ সিং সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি টুইট করে লেখেন, “আপনারা তো এবার ছাত্রদের মারধর করছেন। হ্যালো দিল্লি পুলিশ, আপনাদের লজ্জা করছে না? হ্যালো নেতা-মন্ত্রী! কী চলছে ভাই? নিজেদেরকে ভগবান ভেবে নিয়েছেন নাকি? সব কিছু মনে থাকবে। হর হর মহাদেব। আর মনে রাখবেন, পরিবর্তনই চিরন্তন সত্য।”
নেটপাড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
কৌশিকী চক্রবর্তীর এই প্রতিবাদের পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পরেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় ভরে ওঠে কমেন্ট বক্স:
একদল নেটিজেন গায়িকার সাহসিকতার প্রশংসা করে লিখেছেন, “অন্তত কেউ একজন সাহস করে মুখ খুলেছেন। যুবসমাজের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।” অন্য একজন লেখেন, “এটি রাজনীতির বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবনের প্রশ্ন। আমাদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।”
অন্যদিকে, অন্য একটি অংশের আবার ভিন্ন মত। এক অনুরাগী বা নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “কৌশিকীজি আপনি শুধু মুদ্রার এক দিকটাই দেখছেন। শুধু ছাত্রছাত্রীরাই রক্তাক্ত হচ্ছে না, তাদের এমন এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যা একদল উসকানিকারীর প্ররোচনায় তৈরি হয়েছে।”
সবমিলিয়ে, দিল্লির ছাত্র বিক্ষোভের তাপ এখন এসে পৌঁছেছে বিনোদন জগতের অন্দরমহলেও, যেখানে শিল্পীদের সরব হওয়া নিয়ে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে তরজা তুঙ্গে।