মেয়ের মুখ দেখতে পাননি দীর্ঘ ১০ বছর! আমির খানের সৎ ভাইয়ের সঙ্গে ভাঙা সংসার নিয়ে বিস্ফোরক দাবি এভার

সম্প্রতি সিদ্ধার্থ কান্টনকে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অতীতের অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী এভা গ্রোভার (Eva Grover)। খুব কম দিনের পরিচয়ে ভিন্ন ধর্মে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার পর থেকেই যে তাঁর জীবনে নেমে এসেছিল চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, তা খোলসা করেছেন তিনি। পাশাপাশি, একসময়ের সেই স্বামী আজ চরম আর্থিক সংকটে ভুগছেন এবং তাঁর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করেছেন অভিনেত্রী।
বিয়ের ৩ দিনের মাথায় শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন
এভা জানান, হায়দর আলি খানের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় তাঁরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ের আগে হায়দারের শুধুমাত্র ভদ্র ও মার্জিত রূপটিই তিনি দেখেছিলেন। কিন্তু বিয়ের ঠিক তিন দিন পর থেকেই বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি।
এভার দাবি, হায়দর সিজোফ্রেনিয়া (Schizophrenia) নামক এক মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন, যে বিষয়ে বিয়ের আগে তাঁর কোনো ধারণাই ছিল না। তিনি বলেন, “বিয়ের তৃতীয় দিনেই আমাদের একান্তে কাটানোর মুহূর্তে প্রথম সহিংসতার মুখোমুখি হই। ও আমাকে মারধর শুরু করে। সেসময় আমি বুঝতেই পারছিলাম না কেন এমনটা ঘটছে।”
দিনের পর দিন অ্যালকোহল আসক্তি, অভিনয়ে ব্যর্থতার হতাশা এবং হায়দারের অতিরিক্ত সন্দেহবাতিক মনোভাবের কারণে তাঁদের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল বলে জানান এভা। এমনকি হায়দারের বাবা-মাও তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন এবং তাঁর শরীরে সবসময় আঘাতের নীলচে দাগ থাকত।
মাতৃত্বও বাঁচাতে পারেনি সম্পর্ক
সব অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করেও এভা দীর্ঘ পাঁচ বছর সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর আশা ছিল, সন্তান এলে হয়তো পরিস্থিতির বদল ঘটবে। কিন্তু মেয়ে হওয়ার পরেই অবস্থা আরও জটিল হয়ে ওঠে। ডিপ্রোসিডিংস শুরু হওয়ার পর তাঁকে জোর করে মায়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্য ও শুটিং ইউনিটের সহকর্মীদের জোর ও পরামর্শেই তিনি শেষ পর্যন্ত ওই ভাঙা ও হিংসাত্মক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন এবং বিচ্ছেদ নেন। তবে বিচ্ছেদের পর সবচেয়ে বড় আঘাত আসে মেয়ের থেকে দূরে থাকার বেদনা। মেয়ের বয়স যখন তিন বছর, তখন থেকেই সম্পূর্ণ কাস্টডি চলে যায় হায়দারের পরিবারের কাছে। এভা জানান, কোনো সমর্থন না থাকায় টানা ১০ বছর তিনি নিজের মেয়ের মুখ দেখতে পাননি। তবে সেই দূর থেকেও তিনি গোপনে মেয়ের পড়াশোনার সমস্ত খরচ চালিয়ে গেছেন। বর্তমানে তাঁর ১৯ বছরের মেয়ে সপ্তাহে এক-দু’বার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসে এবং যথেষ্ট পরিণত হয়েছে।
আমির খানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন
ওই সাক্ষাৎকারে বলিউড অভিনেতা আমির খান ও হায়দারের পরিবারের সম্পর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন এভা। তিনি দাবি করেন, আমির খান আগে থেকেই জানতেন যে এই বিয়ে করে এভা ভুল করছেন।
আমির এবং হায়দর বা তাঁর বোন একই পরিবারের অংশ হলেও, হায়দর ও তাঁর বোন ছিলেন তাহির হুসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী শাহনাজ খানের আগের পক্ষের সন্তান। এভার দাবি, তাহির হুসেনের শেষ দিনগুলিতে আমির তাঁকে পুনেতে নিজের কাছে রেখেছিলেন এবং হায়দারের মাকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা ব্রেন হেমারেজে মৃত্যু হয় হায়দারের মায়ের।
আজ চরম দুর্দিনে প্রাক্তন স্বামী
অতীতের সমস্ত তিক্ততা সত্ত্বেও আজ প্রাক্তন স্বামী হায়দারের এই করুণ অবস্থা দেখে সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এভা। তাঁর দাবি, বর্তমান সময়ে হায়দারের কোনো স্থায়ী বাসস্থান নেই, দুবেলা খাবারের জন্যও তাঁকে संघर्ष করতে হয়। বন্ধু বা পরিচিতদের কৃপায় কখনো চাওলে (Chawl) আবার কখনো অন্য কোথাও দিন কাটছে তাঁর। চারপাশের মানুষ তাঁকে শুধু মদ জুগিয়ে যাচ্ছে, দেখভাল করার কেউ নেই। এভা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “যা ঘটেছে তা অতীত, কিন্তু মানবিকতার খাতিরে ও একসময় আমার স্বামী ছিল। আমি শুধু প্রার্থনা করি, ওর জীবনের অন্তিম সময়ে যেন ও একটু শান্তি পায়।”