১২৫ জনের নিয়োগে সুপারিশ কার? পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদনের ছেলে ED-র দপ্তরে

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির পর এবার রাজ্যের পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Municipality Recruitment Scam) আরও বিপাকে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র ও তাঁর পরিবার। বুধবার সকালেই ইডির দপ্তরে হাজিরা দিলেন মদন মিত্রের ছোট ছেলে শুভরূপ মিত্র। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির স্ক্যানারে রয়েছে মদন পরিবার। মদনের দুই ছেলের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীকেও তলব করা হয়েছে।
কামারহাটি ও টিটাগড় পুরসভায় নিয়োগ নিয়ে জেরা
এ দিন দুপুর ১২টার মধ্যে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ ছিল। সেইমতো নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ইডির দপ্তরে পৌঁছে যান শুভরূপ মিত্র। তাঁর হাতে একটি ফাইলও দেখা যায়, যাতে মূলত ব্যাংক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, পুরনিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে কামারহাটি ও টিটাগড় পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত বেশ কিছু গরমিল ও অনিয়মের তথ্য পেয়েছে ইডি। তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, সুপারিশের মাধ্যমে ওই দুই পুরসভায় প্রায় ১২৫ জনের মতো প্রার্থীকে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর এই সুপারিশের নেপথ্যেই দাপুটে নেতা মদন মিত্রের নাম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইডি। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে কার কী ভূমিকা ছিল, টাকা লেনদেন হয়েছিল কি না বা এর বিনিময়ে অন্য কিছু প্রাপ্তি ছিল কি না—সেসব বিষয়েই গোয়েন্দারা সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চান।
কার কখন তলব?
পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একে একে মদন পরিবারের সবাইকে তলব করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি:
-
শুভরূপ মিত্র (ছেলেরা): বুধবারই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছেন মদনের ছেলে শুভরূপ।
-
মদন-পত্নী: আগামী কাল, অর্থাৎ ২৩ জুলাই ইডির দপ্তরে হাজিরার জন্য তলব করা হয়েছে মদন মিত্রের স্ত্রীকে।
-
মদন মিত্র: আগামী ২৯ জুলাই সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে স্বয়ং।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, মদন পরিবার ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের নামে থাকা তিনটি নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের একটি নির্দিষ্ট সময়ের আর্থিক লেনদেন নিয়ে ইডির বিশেষ নজর রয়েছে।
কীভাবে সামনে এল এই পুরনিয়োগ দুর্নীতি?
উল্লেখ্য, রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলার তদন্ত চলাকালীন অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেই সময় তাঁর বাড়ি থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়, যা থেকে ইডি নিশ্চিত হয় যে কেবল শিক্ষা ক্ষেত্রে নয়, রাজ্যের একাধিক পুরসভাতেও ব্যাপক নিয়োগ-দুর্নীতি হয়েছে। এর পরেই ইসিআইআর (ECIR) দায়ের করে পুরনিয়োগ মামলার তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
তদন্তে কামারহাটি, বরানগর ও দক্ষিণ দমদম-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রভাবশালী পুরসভার নাম উঠে আসে। এমনকি দক্ষিণ দমদম পুরসভার দুর্নীতির তদন্তে নেমে অতীতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকেও। এর আগে মদন মিত্রের দক্ষিণেশ্বর ও ভবানীপুরের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। এবার মদন মিত্রকে সরাসরি জেরা করার আগে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মুখোমুখি বসিয়ে জেনেশুনে আর্থিক অনিয়ম ও সুপারিশের জাল কতদূর বিস্তৃত ছিল, সেটাই মূলত স্পষ্ট করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।