‘টেনে রাস্তায় নামিয়ে জামাকাপড় খুলে পেটাতাম!’ একুশের মঞ্চ ও অভিষেককে নিয়ে বিস্ফোরক হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের

গতকাল মঙ্গলবার খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত হয়েই ২১ জুলাই শহীদ দিবস পালন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চ থেকে দলীয় কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা দিলেও, সেই দাবিকে কটাক্ষ করেছেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। পাশাপাশি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দিন পাল্টানো’ মন্তব্যের বিরুদ্ধেও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।
তৃণমূলের শহীদ দিবস ও শক্তি প্রদর্শন নিয়ে কটাক্ষ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কর্মীরা তাঁর সঙ্গেই আছে’—এই দাবি প্রসঙ্গে তোপ দেগে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘কার সঙ্গে কে ছিল কাল সবাই দেখেছে। ওনারা শহীদ তর্পণ নিয়ে কম্পিটিশন করেছেন। এটার কোনো দরকার ছিল না। তিনি ওই দিন যে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করতেন, সেটা বন্ধ হয়েছে।’’
শহীদ দিবসে যোগ দিতে যাওয়া কর্মীদের বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি আটকেছে এবং মেরেছে বলে যে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল, তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন দিলীপ বাবু। তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘‘আমার জানা নেই বিজেপি কোথাও কাউকে আটকেছে বা মেরেছে বলে। এসব মিথ্যা দিয়ে নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা করছে। ওরা শহীদ দিবস করেছে, সরকার সহযোগিতা করেছে। লোক না এলে তার জন্য বিজেপি দায়ী নয়। আপনাদের শক্তি কতটা, তা এতদিনে পরিষ্কার হয়ে গেছে। এতদিন প্রশাসনিক শক্তি লাগিয়ে ডিম-ভাতের প্রলোভন দিয়ে লোক টেনে আনতেন।’’
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ও হুঙ্কার দিলীপের
অভিষেকের ‘দিন পাল্টাতে বেশি দেরি নেই’—এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মেজাজি ভঙ্গিতে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘দিন পাল্টেছে বলেই তো আপনাদের এই দিনটা দেখতে হলো। এটা দেখবে বলেই তো পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পরিবর্তন করেছে। আমার সঙ্গে একসময় ওরা যা করেছিল, তার বদলে আমি তো কিছুই করিনি। যদি করতাম, তাহলে টেনে রাস্তায় নামিয়ে জামাকাপড় খুলে পেটাতাম। এখনও করতে পারি, কিন্তু আমাদের একটা সংস্কার আছে, নীতি-আদর্শ আছে। আমরা ওসব করব না।’’
যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ ও বিরোধীদের নিশানা
দেশজুড়ে বিরোধী দলগুলির সম্ভাব্য আন্দোলন এবং যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘ওনাকে কে ডেকেছে যন্তর মন্তরে? ওনাকে ডাকারও তো লোক নেই, সঙ্গে যাওয়ারও লোক নেই। যারা ভাবছে বাংলাদেশ, নেপাল বা শ্রীলঙ্কার মতো উৎপাত তৈরি করবে, তারা যেন ভুলে না যান যে এটা ভারত। এখানকার মানুষ চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেন।’’
একইসঙ্গে রাহুল গান্ধী সহ অন্যান্য বিরোধী নেতাদের তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘‘কিছু লোক বিদেশি টাকায় রাহুল গান্ধীসহ অন্যান্য নেতাদের কথায় নাচানাচি করছে। কদিনের মধ্যেই সব ঠান্ডা হয়ে যাবেন। উদ্ভব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব—এই সমস্ত হারিয়ে যাওয়া পরিত্যক্ত বা রিজেক্টেড নেতারা পালে হাওয়া টানার চেষ্টা করছেন।’’