ডিএ ও সপ্তম পে কমিশন নিয়ে বিরাট ঘোষণা! পুজোর আগেই সরকারি কর্মীদের জন্য বড় সুখবর শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী

বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে রাজ্যজুড়ে দীর্ঘ চর্চার মাঝেই এবার রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য ডিএ এবং নতুন পে কমিশন নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর বিষয়ে স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

ডিএ ও নতুন পে কমিশন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বড় আশ্বাস
এদিন বকেয়া ডিএ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার কাজ আগের সরকার শুরু করেছিল। আমি আসার পর তা আরও অনেকটা মিটিয়ে দিয়েছি। আর বাকি যে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া রয়েছে, সেটাও আমরা খুব শীঘ্রই দিয়ে দেব।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যের বাজেটেই ইতিমধ্যেই ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। আর সেইমতো আসন্ন অক্টোবর মাস অর্থাৎ পুজোর মাসেই সরকারি কর্মীরা তাঁদের অগ্রিম বেতনের সঙ্গেই এই ২০ শতাংশ ডিএ হাতে পেয়ে যাবেন। সেই ক্ষণ আর বেশি দূরে নয়, কার্যত দোরগোড়ায় এসে গেছে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের তরফে চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, রাজ্যে বর্তমান সরকার আসার পর তাদের প্রথম বাজেটেই এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। ষষ্ঠ পে কমিশনের আওতায় রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির এই অনুমোদনের ফলে ডিএ একলাফে ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে সরাসরি ৩৮ শতাংশে এসে পৌঁছায়।

কেন্দ্রের সঙ্গে ব্যবধান ও কর্মীদের প্রতিক্রিয়া
এই সিদ্ধান্তের ফলে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-র ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। আগামী অক্টোবর মাস থেকেই কর্মীরা ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পেতে শুরু করবেন। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্যের কর্মীদের ডিএ-র ব্যবধান এখনও কিছুটা রয়েছে, তবে সেই ব্যবধান একবারে না হলেও ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ কমিয়ে আনা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, কর্মীদের সমস্ত বকেয়া ডিএ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মিটিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করায় স্বভাবতই অত্যন্ত খুশি ও স্বস্তিতে রয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *