“সেলিব্রিটিদের ক্যাটওয়াক করানোর জায়গা নয়!” একুশের মঞ্চে টলিউড তারকাদের নিয়ে বিস্ফোরক ঋতব্রত-মদন

একসময় একুশে জুলাই মানেই ছিল কলকাতার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের মঞ্চে রাজনীতি আর রুপোলি পর্দার এক অভূতপূর্ব ও নজরকাড়া মেলবন্ধন। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীদের পাশাপাশি বরাবরই উজ্জ্বল উপস্থিতিতে খবরের শিরোনামে থাকতেন টলিউডের প্রথম সারির অভিনেতা, অভিনেত্রী, পরিচালক ও প্রযোজকরা। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সময় ও সমীকরণ দুটোই পাল্টে গিয়েছে। মমতার একুশের সভাস্থল ভিক্টোরিয়া হাউস থেকে সরে এসে এবার হয়েছে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে। আর সেই নতুন আবহেই এবারের শহিদ দিবসের সামগ্রিক চিত্রটা ছিল অনেকটাই ভিন্ন, যেখানে গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের তারকাদের উপস্থিতি ছিল আগের তুলনায় অনেকটাই ম্লান। অন্যদিকে, একই দিনে মেয়ো রোডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৃথক শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে বাংলা বিনোদন জগতের তারকাদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানানো হয়।

এদিনের সেই নতুন মঞ্চ থেকেই টলিউড তারকাদের কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মদন মিত্র। তাঁদের জোরালো দাবি, বিগত বছরগুলিতে শহিদ পরিবারের আসল প্রাপ্য সম্মান ও আবেগ সম্পূর্ণ ঢাকা পড়ে গিয়েছিল রুপোলি পর্দার তারকাদের চাকচিক্যে। শহিদ দিবসের পবিত্র মঞ্চে তারকাদের আনাগোনার প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একহাত নিতে ছাড়েননি এই দুই নেতা।

টলিউড তারকাদের তুলোধনা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাস থেকে নামিয়ে সেলিব্রিটিদের প্যারেড করানোর বা ক্যাটওয়াক করার জায়গা একুশের শহিদ দিবস নয়। এতদিন ধরে এভাবেই শহিদ দিবস পালিত হয়ে এসেছে। ধারাবাহিকের পার্শ্বচরিত্ররা স্টেজে জায়গা পেত, আর একেবারে পিছনের সারিতে অবহেলায় পড়ে থাকত আসল শহিদ পরিবার। এই মঞ্চ কোনোভাবেই নাচ-গানের নয়।” ঠিক একই সুরে সুর মিলিয়ে আরও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, “যদি আজ এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকতেন, তবে এই মঞ্চে শহিদদের পরিবাররা থাকত পিছনে, আর সামনে চকচক করত গাল, সানগ্লাসগুলো খুলে ঘোরাতে ঘোরাতে আসতেন বাংলা চলচ্চিত্রের সেলিব্রিটিরা! সেলিব্রিটিরা উপরে, আর শহিদরা নিচে! ভালো করে শুনে রেখে দিন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী বাংলার কোনো সেলিব্রিটি বানায়নি!”

রাজনীতিবিদদের এই চাঁচাছোলা ও আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পরেই বাংলার বিনোদন জগতের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একুশের মঞ্চ থেকে আসা এই আক্রমণকে শিল্পীদের প্রতি চরম অপমান হিসেবেই দেখছেন টলিউডের অনেকেই। যার পাল্টা জবাব দিতে পিছপা হননি অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্রও।

টিভি নাইন বাংলাকে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রূপাঞ্জনা বলেন, “স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কেটে সোজা পথ না বেছে, দিনের পর দিন ধৈর্য ধরে নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকের মনে পাকাপাকি জায়গা করে নেন একজন শিল্পী।” নেতাদের তীব্র কটাক্ষের জবাব দিয়ে তিনি আরও আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “শহিদ দিবসে রাজনীতিবিদদের বেসুরো গলায় অর্ধেক গানের কথা ভুলে গিয়ে গান গাওয়াটা কি খুব শ্রেয়? আসলে বালিশের উপর শুয়ে যাঁরা সারা দিন জিভের ফিজিওথেরাপি করতে ব্যস্ত, তাঁরা আর একজন শিল্পীর আসল মর্ম বা কষ্ট কী করে বুঝবেন বলুন!”

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের একুশে জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবসের মূল মঞ্চেই অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে পুনরায় যোগদান করেছিলেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর তিনি বিজেপিতে যোগ দিলেও, পরবর্তীতে মতবিরোধের জেরে দীর্ঘ ছয় বছর পর পদ্মশিবির ছেড়ে তিনি পুরনো দলেই ‘ঘর ওয়াপসি’ করেছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *