পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিরাট বিপাকে মদন মিত্র! ইডির তলবে রাজনৈতিক মহলে চরম শোরগোল

কিছুদিন আগেই স্ত্রী ও দুই ছেলেকে পুরনিয়োগ দুর্নীতির মামলায় তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আর এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় এজেন্সির সমন পেলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তেই তাঁকে তলব করা হয়েছে। আগামী ২৩ জুলাই মদন মিত্রের স্ত্রীকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করেছে ইডি, আর ঠিক তার পরেই আগামী ২৯ জুলাই খোদ মদন মিত্রকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির পক্ষ থেকে। তবে ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, মদন মিত্র এই তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
আগেও একাধিক বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে ইডি
এর আগে কামারহাটি পৌরসভায় অবৈধ নিয়োগ মামলার সঙ্গে নাম জড়ায় মদন মিত্রের। গত জুন মাসেই তাঁর একাধিক বাসভবনে ঝটিকা তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। ভবানীপুরের সুপরিচিত বাড়ি ছাড়াও দক্ষিণেশ্বর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় একাধিক ঠিকানায় হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই সময় তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও উদ্ধার করা হয়েছিল বলে ইডি সূত্রে জানা যায়।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সমীকরণ
গত ১৪ জুলাই ইডি নোটিস পাঠানোর পরই রাজনৈতিক ময়দানে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় এন্টালির প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন মদন। এর ঠিক পরের দিন সকালেই বিধানসভায় পুরনো শিবির বদলে অন্য দলে যোগ দেন তিনি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন। শিবির বদল করেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করতে শুরু করেন তিনি।
তবে তাঁর এই অবস্থান বদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হলে, মদনের পাশে দাঁড়িয়ে বিধায়ক কুণাল ঘোষ এক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বলেছিলেন, “আমরা এটুকু জেনে রাখছি, আমাদের ভেতরের একটা লোক ওদের মধ্যে রইল।” মুহূর্তের মধ্যে তার পাল্টা জবাব দিয়ে মদন মিত্র দাবি করেছিলেন যে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে তিনি আগামী দশ বছর বিরোধী আসনেই দেখতে চান।
একুশের মঞ্চ থেকে আক্রমণ ও আইনি নোটিস
এদিকে সম্প্রতি শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির ভাষায় আক্রমণ করতে দেখা যায় মদন মিত্রকে। তিনি প্রকাশ্যেই বলেন, “খোলাখুলি শুনুন। আমি অন্য কাউকে নয়, মমতাকে বলছি… অভিষেক এক ঘণ্টা টাইম দিয়েছে, আপনাকে এক মাস সময় দিচ্ছি। অভিষেকের হাত ছেড়ে এই ছেলেদের হাত ধরুন। আপনার পার্টি এটা, অভিষেকের পার্টি নয়।”
শুধু তাই নয়, এর আগে গত ১৯ জুলাইয়ের লাইভ সম্প্রচারেও অভিষেককে আক্রমণ করেছিলেন কামারহাটির এই বিধায়ক। যার পাল্টা হিসেবে মদনকে দশ কোটি টাকার মানহানির নোটিসও ধরিয়েছিলেন অভিষেক। ঠিক এইরকম এক চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহেই এবার সরাসরি ইডির সমন এসে পৌঁছাল মদন মিত্রের কাছে, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।