অনশনরত সোনমকে বিশেষ অনুরোধ কেন্দ্রের, ছাত্রদের আন্দোলনের পথ ছাড়ার আর্জি মন্ত্রীদের

লাদাখের পরিবেশকর্মী তথা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন এবং দেশজুড়ে চলা ছাত্র বিক্ষোভের আবহে বুধবার মেদান্ত হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে সোনমের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক ইতিবাচক প্রস্তাব ও আশ্বাসের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সোনম ওয়াংচুককে কী আশ্বাস দিল কেন্দ্র?
সূত্রের খবর, মেদান্ত হাসপাতালে অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদ্বয় পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং NEER প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত প্রতিটি জ্বলন্ত ইস্যুতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করতে সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত।
শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনতে কেন্দ্র ধাপে ধাপে একাধিক সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, সোনম ওয়াংচুক যেন আন্দোলনরত ছাত্রসমাজকে সরকারের ওপর ভরসা রাখার এবং নতুন করে বিক্ষোভ বা সংঘাতের পথ থেকে সরে আসার অনুরোধ জানান। মেদান্ত হাসপাতালে যাওয়ার আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দীর্ঘ চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও করেন।
বিরোধী আক্রমণ ও রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
অন্যদিকে, মঙ্গলবারের ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জের ঘটনার প্রতিবাদে এবং আলোচনা চেয়ে রাজ্যসভায় নোটিস দিয়েছেন তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নাদিমূল হক। এর আগে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেও এই আন্দোলনের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এই ইস্যুতে সরকারের আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে রাহুল গান্ধী সরাসরি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
যন্তর মন্তর থেকে নিউ ইয়র্ক—ছড়িয়ে পড়ছে আন্দোলনের আঁচ
বুধবার সকাল থেকেই দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবদের ভিড় বেড়েই চলেছে। বর্তমানে তাঁদের একমাত্র এবং প্রধান দাবি—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। শুধু জাতীয় রাজধানী নয়, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে এই আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক স্তরেও। সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে সুদূর নিউ ইয়র্ক এবং লন্ডনের মতো বিশ্বজোড়া শহরেও প্রবাসী ভারতীয় ও ছাত্রসমাজ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। এই পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত করতে কেন্দ্র কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।