সরকারি কর্মীদের মিলবে বাড়তি DA, ২০২৭ সালের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন চালুর ইঙ্গিত

সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ মামলার শুনানির ঠিক আগে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিদ্যুৎ ভবনে আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে উচ্চপর্যায় বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠকেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানো এবং আগামী দিনে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুজোর আগেই বাড়তি ডিএ-র ঘোষণা
রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ব্যবধান ধাপে ধাপে কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আগামী অক্টোবর মাস, অর্থাৎ পুজোর আগেই অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “অক্টোবর মাস, পুজোর মাসেই অগ্রিম বেতন পাবেন, তখনই পেয়ে যাবেন ২০ শতাংশ ডিএ।” উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। শুভেন্দু স্পষ্ট করেছেন যে, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-ও ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়া হবে।
সপ্তম বেতন কমিশন চালুর ইঙ্গিত
চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি আর্থিক বছরের শেষ অর্থাৎ ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যেই সংশোধিত বেতন ও পেনশনের সুবিধা কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষে অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর করার সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে রাজ্য সরকার।
বিদ্যুৎ দফতরে স্বচ্ছ নিয়োগ ও বদলি নীতি
বিদ্যুৎ দফতর এবং চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে এই বৈঠকে নতুন নিয়োগ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্যের বিদ্যুৎ সংস্থাগুলিতে ইঞ্জিনিয়ার-সহ সমস্ত নতুন নিয়োগ এবার থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (WBPSC) মাধ্যমেই করা হবে। এছাড়া, একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত কর্মীদের নিয়োগ ও বদলি সংক্রান্ত নতুন নীতিরও ঘোষণা করেছেন তিনি, যা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বড় বদল আনতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।