Mamata Banerjee: ১৯৯৭ সালের ‘ইন্ডোর-আউটডোর’ প্ল্যানেই রাজনৈতিক লড়াইয়ের ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজনৈতিক পটবদলের জল্পনা এবং দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মধ্যেই একেবারে ঝাঁঝালো মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে বিদ্রোহী শিবিরকে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি টেনে আনলেন ১৯৯৭ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস। একইসঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় তিনি দাবি করলেন, দলীয় কর্মীরা তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন এবং তাঁরাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস।

‘নেতারা গিয়েছে, কর্মীরা যায়নি’

এদিন কালীঘাট তৃণমূলের উদ্যোগে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে আয়োজিত শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপচে ভিড় দেখে মমতা বলেন, “টাকা দিয়ে কাউকে আনতে হয়নি, প্রাণের টানে চলে এসেছেন। আমি যদি থাকি আর আমার টিম থাকে, আমরা আপনাদের ধরাশায়ী করে ছাড়ব। চোর-ডাকাত-গদ্দারদের ছেড়ে কথা বলব না। এবার ব্যাট-বলের খেলা হবে।”

বিদ্রোহী নেতাদের নিশানা করে তিনি আরও বলেন, “আমাদের কয়েকজন করে খেয়েছে, আর আজ বিজেপি তাদের রক্ষাকবচ হয়েছে। পাড়ার লোকেরাই আপনাদের বেরোতে দিচ্ছে না, পুলিশ নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে। সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিলেই অস্তিত্ব রক্ষা হয় না। ওটা বিজেপির সাইনবোর্ড।”

কী ছিল ১৯৯৭ সালের সেই ঐতিহাসিক ‘ইন্ডোর-আউটডোর’ প্ল্যান?

তৃণমূল কংগ্রেসের সূচনালগ্নের স্মৃতি রোমন্থন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৭ সালের আগস্ট মাসের রাজনৈতিক ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন। সে সময় তিনি কংগ্রেসে থাকলেও প্রদেশ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছিল। সেই বছর অগস্টে কলকাতায় কংগ্রেসের প্লেনারি অধিবেশন বসেছিল নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। অন্যদিকে, নেত্রীর ডাকে মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে লক্ষ লক্ষ অনুগামী ও কর্মীদের নিয়ে এক বিশাল জনসভা করেছিলেন মমতা।

সেদিন ইন্ডোর স্টেডিয়ামের সভা প্রায় ফাঁকা থাকলেও, আউটডোরের জনসভায় উপচে পড়েছিল মানুষের ঢল। এই ঐতিহাসিক ঘটনার মাত্র কয়েকমাস পরেই, ওই বছরের ডিসেম্বরে তাঁকে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন সেই পুরোনো সংগ্রামের কথাই ফের একবার কর্মীদের মনে করিয়ে দিলেন সুপ্রিমো।

সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়ার হুংকার

কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এদিন কড়া বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, “আমাদের আজ থেকে পথচলা শুরু হলো। এই আন্দোলনে যাঁরা থাকবেন ভালো, যাঁরা থাকবেন না ঘরে বসে থাকুন, আমাদের দরকার নেই। আমরা নতুন কমিটি করব। নেতারা গিয়েছে, কর্মীরা যায়নি। আমাদের দল থাকছে এবং থাকবে। যদি কেউ বেইমানি করে দল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, আমরাও ছিনিয়ে নেব। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই চালাব।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *