ডেঙ্গির আতঙ্কের দিন শেষ! ভারতে চলে এল প্রথম ভ্যাকসিন, দাম ও নেওয়ার নিয়ম জানুন

ফি বছর ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় ডেঙ্গি। বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে ছিলেন এই মারণ রোগের একটি কার্যকরী টিকার জন্য। অবশেষে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতে সরকারিভাবে ছাড়পত্র পেল ডেঙ্গির বহুল প্রতীক্ষিত টিকা।
তাকোদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের (Takeda Biopharmaceuticals India Pvt. Ltd) তৈরি এই টিকার নাম ‘কিউডেম্বা’ (QDENGA)। ‘নিউ ড্রাগস অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস রুলস, ২০১৯’-এর সিি-২০ (CT-20) বিধির আওতায় এই ভ্যাকসিনটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কেন আসতে এত দেরি?
প্রশ্ন উঠতেই পারে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে এই টিকা আসতে এত দেরি হলো কেন? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. রজত বসু জানান, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে এই টিকা আসার খবর আগেই ছিল। কিন্তু কিছু টেকনিক্যাল বাধ্যবাধকতা এবং ভারতে এটি লঞ্চ করার জন্য বিশেষ কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল।
ডা. বসুর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভারতের ডেঙ্গি ভাইরাসের মোট চারটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট সক্রিয় রয়েছে—ডেঙ্গি ১, ২, ৩ এবং ৪। এই ভ্যাকসিনটিকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি চারটি ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধেই সমানভাবে কাজ করতে পারে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে ডেঙ্গু ভাইরাসের এমন বৈচিত্র্য দেখা যায় না। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাইরাসের চরিত্র ভিন্ন হওয়ায় এই টিকা প্রস্তুত করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। সমস্ত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ও সফল তৃতীয় ধাপের (Third Stage) ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ করেই তবে এটি ছাড়পত্র পেয়েছে।
ডোজ ও প্রয়োগবিধি
কোভিড টিকার মতোই ডেঙ্গির এই ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও দুটি ডোজ বাধ্যতামূলক।
-
ব্যবধান: প্রথম ডোজ নেওয়ার ঠিক তিন মাস পর দ্বিতীয় বা বুস্টার ডোজটি নিতে হবে।
-
কারা নিতে পারবেন: ৪ বছর থেকে শুরু করে ৬০ বছর বয়সি যে কেউ এই টিকা গ্রহণ করতে পারবেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা, টিকাকরণ শুরু হলেও ডেঙ্গি প্রতিরোধে অসাবধান হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যতদিন না সর্বস্তরের মানুষ এই টিকা নিচ্ছেন, ততদিন বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেওয়া, মশারি টাঙানো এবং মশা নিধনের সমস্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
ভ্যাকসিনের সম্ভাব্য দাম
টিকার নির্দিষ্ট বাজারমূল্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা না হলেও, বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী—
-
প্রতি ডোজের দাম ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা হতে পারে।
-
অর্থাৎ, দুটি ডোজের সম্পূর্ণ কোর্সের জন্য আনুমানিক ৬,০০০ থেকে ১০,,০০০ টাকা খরচ হতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি একটি সাধারণ তথ্যমূলক প্রতিবেদন মাত্র। যেকোনো ওষুধ সেবন বা চিকিৎসা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।