পশ্চিমাদের চাপে মাথা নত নয়: সস্তায় রুশ তেল আমদানিতে ভারত গড়ল নয়া ইতিহাস

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও নানাবিধ চাপের মুখেও নিজস্ব জ্বালানি নীতিতে অবিচল ভারত। জুন ২০২৬ মাসে রাশিয়া থেকে রেকর্ড পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে ভারত, যার অর্থমূল্য প্রায় ৫.১৪ বিলিয়ন ডলার। ভারতের ইতিহাসে এক মাসে এত বিপুল পরিমাণ রুশ তেল আমদানির ঘটনা এটিই প্রথম।
কেন এই রেকর্ড আমদানি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশাল আমদানির পেছনে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ:
-
সাশ্রয়ী মূল্য: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতার মাঝে রাশিয়া থেকে তুলনামূলক সস্তায় তেল পাওয়ার সুবিধা ভারত গ্রহণ করেছে।
-
জ্বালানি নিরাপত্তা: দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই আমদানি কৌশলগত ভূমিকা পালন করেছে।
-
কৌশলগত সম্পর্ক: পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
ভারতের সাফ বার্তা: ‘নীতি নির্ধারণ করবে দিল্লিই’
আমেরিকা বা পশ্চিমা বিশ্বের সম্ভাব্য চাপকে উপেক্ষা করে ভারত সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, দেশের জ্বালানি নীতি কেবল ভারতীয় স্বার্থ মেনেই নির্ধারিত হবে। বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের জ্বালানি নীতি ভারতের স্বার্থ অনুসারে নির্ধারিত হয়, ওয়াশিংটনে নয়। কোনো বহিরাগত শক্তি এতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।” এই মন্তব্য দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারের দৃঢ় অবস্থানেরই প্রতিফলন।
অর্থনীতিতে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
-
বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয়: সস্তায় তেল পাওয়ার ফলে ভারতের বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করেছে।
-
চীনের পরেই ভারত: ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ভারত রাশিয়ার বৃহত্তম তেল ক্রেতাদের তালিকায় ওপরের দিকে উঠে এসেছে, যা বর্তমানে চীনকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
-
পরিবেশগত বিতর্ক: রেকর্ড এই আমদানি নিয়ে পরিবেশবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা জলবায়ু পরিবর্তনের লক্ষ্যমাত্রার সাথে সাংঘর্ষিক। তারা দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
ভারত সরকারের মতে, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থই বর্তমানে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। জ্বালানি সংকট এড়াতে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এই বাণিজ্য নীতি আগামী দিনেও বজায় রাখার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সস্তায় রুশ তেল আমদানির এই সিদ্ধান্ত কি সাধারণ মানুষের জ্বালানি খরচের বোঝা কমাতে সাহায্য করবে? আপনার মতামত কমেন্ট করে জানান।