মন্দির থেকে সংস্কৃতি রক্ষা: বারাবাঁকির লোধেশ্বর মহাদেব মন্দিরে এবার ‘বিশ্বনাথ ধাম’-এর ধাঁচে করিডোর!

উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকির ঐতিহাসিক লোধেশ্বর মহাদেব মন্দিরের দিন বদলাতে চলেছে। কাশী বিশ্বনাথ ধামের আদলে এবার লোধেশ্বর মন্দিরেও নির্মিত হতে চলেছে একটি বিশাল করিডোর। সোমবার বারাবাঁকির জনসভায় গিয়ে এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
অবহেলিত ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ: জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই পবিত্র তীর্থস্থানটি চরম অবহেলার শিকার হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারগুলি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের বদলে একটি বিশেষ ধর্মীয় কাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণেই বেশি আগ্রহী ছিল। যোগীর কথায়, “স্বাধীনতার আলো এই মন্দিরে পৌঁছায়নি। আজ লোধেশ্বর মহাদেবের আশীর্বাদেই আমি ঘোষণা করছি, এই মন্দিরকে তার হৃত গৌরব ফিরিয়ে দিতে আমরা বিশেষ করিডোর তৈরির জন্য অর্থ বরাদ্দ করছি।”
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে যোগী সরকারের বিশেষ জোর: শুধুমাত্র লোধেশ্বর মন্দিরই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারেও ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকার কাজ করছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান:
-
সম্ভলের ৬৮টি তীর্থস্থানের পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে।
-
পারিজাত গাছ সংরক্ষণ ও বিখ্যাত খেলোয়াড় কে.ডি. সিং ‘বাবু’-র হাভেলি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
-
মাফিয়াদের কবল থেকে প্রায় ১০,০০০ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে, যা আগে বেদখল ছিল।
পূর্ববর্তী সরকারগুলিকে নিশানা: মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আগের শাসনামলে কাওড় যাত্রা, রামনবমীর মিছিল কিংবা কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর মতো উৎসবে বাধা দেওয়া হতো। যারা ভারতের সনাতন ঐতিহ্য ও উৎসবে বাধা দেয়, তাদের ঐতিহ্যের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই বলেও তিনি তোপ দাগেন। অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “৫০০ বছর পর অযোধ্যায় যেমন রাম মন্দির মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে, তেমনই লোধেশ্বর মহাদেবের মন্দিরেও নতুন করিডোর তৈরি হবে।”
কাশী বিশ্বনাথ ধামের ধাঁচে তৈরি এই করিডোর লোধেশ্বর মন্দিরে আসা ভক্তদের জন্য আধুনিক ও সুবিধাজনক পরিকাঠামো প্রদান করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।