নষ্ট হবে না, ছিঁড়বে না! প্লাস্টিকের নোটের ৫টি বিশেষ সুবিধা যা জানলে অবাক হবেন

আপনার মানিব্যাগ থেকে বিদায় নিতে পারে কাগজের নোট। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) খুব শীঘ্রই ভারতে প্লাস্টিক বা পলিমার নোট চালু করার বড়সড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০ এবং ২০ টাকার নোট দিয়েই এই নতুন যাত্রা শুরু হতে পারে বলে খবর।
প্লাস্টিকের নোট কেন প্রয়োজন? দীর্ঘদিন ধরে কাগজের নোটের রক্ষণাবেক্ষণ ও ছাপানোর পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয় সরকারকে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে নোট ছাপাতেই খরচ হয়েছে ৬,৩৭২ কোটি টাকা। এই বিশাল খরচ কমানোর লক্ষ্যে এবং নোটের স্থায়িত্ব বাড়াতে প্লাস্টিক নোটই হতে যাচ্ছে ভবিষ্যৎ।
প্লাস্টিকের নোটের প্রধান ৫ সুবিধা: ১. দীর্ঘস্থায়িত্ব: পলিমার নোট প্রচলিত কাগজের নোটের তুলনায় ২.৫ থেকে ৪ গুণ বেশি দিন টিকে থাকে। ২. জল ও ময়লা প্রতিরোধী: এই নোট জলে ভিজে নষ্ট হয় না এবং এতে সহজে ময়লা বা ব্যাকটেরিয়া জমে না, যা স্বাস্থ্যবিধির দিক থেকেও অত্যন্ত কার্যকর। ৩. ছিঁড়ে যাওয়ার ভয় নেই: সাধারণ কাগজের নোটের মতো এগুলো সহজে ছিঁড়ে যায় না, ফলে নোট বিনিময়ের হার অনেক বাড়বে। ৪. জালিয়াতি রোধ: এই নোটের ভেতরে থাকা স্বচ্ছ হলোগ্রাম, বিশেষ কালি এবং অপটিক্যালি ভ্যারিয়েবল ডিভাইস নকল করা প্রায় অসম্ভব। ফলে জাল নোটের কারবারিদের জন্য এটি বড় মাথাব্যথার কারণ হবে। ৫. সাশ্রয়ী: যদিও প্লাস্টিকের নোট ছাপানো তুলনামূলক ব্যয়বহুল, তবে দীর্ঘমেয়াদে এগুলোর স্থায়িত্ব বেশি হওয়ায় বারবার নোট ছাপানোর খরচ অনেক কমে যায়। অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো পলিমার নোট ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা বাঁচিয়েছে।
চ্যালেঞ্জ কী কী? প্লাস্টিকের নোটের অনেক সুবিধার পাশাপাশি কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যেমন:
-
উচ্চ তাপমাত্রায় এই নোটের বিকৃতির সম্ভাবনা থাকে।
-
এই নোট চালু করতে হলে দেশের এটিএম মেশিন এবং নোট গণনার যন্ত্রগুলোকেও নতুন করে আপডেট করতে হবে।
-
পলিমার নোটের পুনর্ব্যবহার (Recycling) পদ্ধতি কাগজের নোটের চেয়ে কিছুটা জটিল ও ব্যয়বহুল।
অন্যান্য দেশে পরিস্থিতি: ভারত একা নয়, এর আগেও কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে প্লাস্টিকের নোটের সফল ব্যবহার দেখা গিয়েছে। সরকার এবার তৃতীয়বারের মতো এই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সফল হলে ভারতীয় মুদ্রার অর্থনীতিতে এক বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।