পুরুষদের নীরব ঘাতক প্রোস্টেট ক্যান্সার! এই ৫টি লক্ষণ দেখা দিলেই সতর্ক হোন

পুরুষদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যান্সার বর্তমানে অন্যতম সাধারণ একটি রোগ। তবে ভয়ের কারণ হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে রোগ যখন ধরা পড়ে, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, মূত্রসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যাকে কেবল বার্ধক্যের স্বাভাবিক লক্ষণ মনে করে এড়িয়ে যাওয়া বড় ভুল হতে পারে।
প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী?
পিএসআরআই (PSRI) হাসপাতালের অনকোলজিস্ট ডা. অমিত উপাধ্যায়ের মতে, প্রাথমিক অবস্থায় রোগী নিজেকে একদম সুস্থ মনে করতে পারেন। তবে নিচে দেওয়া ৫টি লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ: বিশেষ করে রাতে বারবার প্রস্রাব করতে ওঠা বা হঠাৎ প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া প্রোস্টেটের সমস্যার বড় লক্ষণ।
প্রস্রাবে অসুবিধা: প্রস্রাব শুরু করতে কষ্ট হওয়া, ধার দুর্বল হওয়া বা প্রস্রাবের পর মূত্রথলি খালি হয়নি এমন অনুভূতি হওয়া।
রক্তের উপস্থিতি: প্রস্রাব বা বীর্যে সামান্যতম রক্ত দেখা দিলে তা কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা: কোমর, পিঠ বা কুঁচকির দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা যদি প্রস্রাবের সমস্যার সাথে থাকে, তবে সতর্ক হোন।
হঠাৎ ওজন হ্রাস ও ক্লান্তি: কোনো কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা মাত্রাতিরিক্ত শারীরিক ক্লান্তি ক্যান্সারের অন্যতম ইঙ্গিত হতে পারে।
কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
বয়স: ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক বেশি।
পারিবারিক ইতিহাস: যদি বাবা বা ভাইয়ের মতো নিকট আত্মীয়দের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে, তবে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
সতর্কতা ও পরামর্শ:
চিকিৎসকের মতে, এই উপসর্গ থাকলেই যে ক্যান্সার হয়েছে—এমনটি নয়। সাধারণ প্রোস্টেট এনলার্জমেন্টের কারণেও এমন হতে পারে। কিন্তু পরীক্ষা না করা পর্যন্ত আসল কারণ বোঝা সম্ভব নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি।
তাই ৫০ বছর পার হওয়া প্রতিটি পুরুষের উচিত নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Screening) করানো। নিজের শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সচেতনতাই প্রোস্টেট ক্যান্সার জয় করার প্রধান চাবিকাঠি।