সিন্ধু জলচুক্তিতে ‘টাকার ফাঁদে’ পাকিস্তান! আন্তর্জাতিক মামলায় ভারতের খরচও মেটাতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে?

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক সিন্ধু জলচুক্তি বর্তমানে এক চরম কূটনৈতিক ও আইনি জটিলতার মুখে। এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে চলা আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের লড়াইয়ে পাকিস্তান এখন এমন এক গোলকধাঁধায় পড়েছে, যেখানে মামলা লড়তে গিয়ে তাদের গুনতে হচ্ছে ভারতের অংশের আইনি খরচও। সব মিলিয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ৬ লক্ষ মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানকে।
পাকিস্তানের ওপর আর্থিক বোঝা কেন?
আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, বিচার প্রক্রিয়ার ব্যয়ভার সাধারণত দুই পক্ষকে সমানভাবে বহন করতে হয়। তবে ভারত শুরু থেকেই এই নির্দিষ্ট সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং জানিয়েছে, তারা এই আদালতের রায়কে বাধ্যতামূলক বলে মনে করে না। নিয়ম অনুযায়ী, এক পক্ষ অংশগ্রহণ না করলে অন্য পক্ষকে পুরো মামলার খরচ বহন করতে হয়। ফলে ভারত আইনি ব্যয় থেকে অব্যাহতি পেলেও, পুরো আর্থিক বোঝা চেপেছে পাকিস্তানের কাঁধে।
বিরোধের প্রেক্ষাপট:
২০২৫-এর পহেলগাঁও হামলা: জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর ভারত কঠোর অবস্থান নেয়। নয়াদিল্লির স্পষ্ট বার্তা—সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির সুবিধা একসঙ্গে চলতে পারে না। এর প্রেক্ষিতেই ভারত সিন্ধু জলচুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
পুরানো আইনি লড়াই: কিষাণগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে ২০১০, ২০১৬ এবং ২০২৩ সালে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। ভারতের দাবি, প্রকল্পগুলি চুক্তির শর্ত মেনেই তৈরি, কিন্তু পাকিস্তানের অভিযোগ চুক্তির সীমা লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক ‘ফাঁদে’ পাকিস্তান:
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান এখন এক কঠিন উভয়সংকটে পড়েছে। একদিকে মামলা তুলে নিলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে, অন্যদিকে মামলা চালিয়ে গেলে আর্থিক সংকটে থাকা দেশটির অর্থনীতিতে আরও চাপ পড়বে। ভারতের কৌশলগত অবস্থান এবং মামলার শুনানিতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যত পাকিস্তানকেই দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ও কূটনৈতিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর দাঁড়িয়ে নয়াদিল্লি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে—সিন্ধু জলবণ্টন নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমেই হওয়া উচিত। জলসম্পদ ও কূটনীতির এই লড়াইয়ে ভারত নিজের অবস্থানে অনড় থাকায় পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও জটিল হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।