পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় ভয়াবহ ভূমিকম্প! ধসে পড়া বাড়ির নিচে চাপা পড়ে নিহত অন্তত ৫, গৃহহীন ৩০০

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘আগ্নেয় বলয়’-এর (Pacific Ring of Fire) কবলে পড়ে ফের বড়সড় বিপর্যয়ের সাক্ষী হলো দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু। রবিবার পেরুর আন্দিজ পর্বতমালা অঞ্চলে আঘাত হানা ৫.৫ মাত্রার তীব্র ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ২০ জনেরও বেশি মানুষ এবং প্রায় ৩০০ জন বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

বিপর্যয়ের সংক্ষিপ্ত খতিয়ান:
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল হুয়ানকায়ো প্রদেশের সিকাইয়া শহরের ২ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে হওয়ায় এর আঘাত ছিল অত্যন্ত প্রবল। স্থানীয় গির্জা, মঠসহ বহু প্রাচীন ও দুর্বল কাঠামো সম্পন্ন ভবন ধসে পড়েছে। চঙ্গো বাজো কৃষি অঞ্চলটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর।

কেন এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি?
পেরুর জাতীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রধান লুইস ভাসকেজ জানিয়েছেন, ওই আন্দিজ অঞ্চলের নির্মাণকাজে মূলত কাঁচা ইটের (Adobe) ব্যবহার করা হয়। ভূমিকম্পের তীব্রতায় এই ধরনের কাঁচা মাটির কাঠামো সহ্য করতে না পেরে সহজেই ভেঙে পড়েছে, যা প্রাণহানির সংখ্যা বাড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে গৃহপালিত পশুদেরও আটকে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তরা খোলা আকাশের নিচে কম্বল জড়িয়ে রাত কাটাচ্ছেন, যা সেখানকার মানবিক পরিস্থিতির করুণ ছবি তুলে ধরছে।

পেরুর দীর্ঘ ইতিহাস ও আশঙ্কা:
পেরু এমন এক ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে যা অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ। এর আগে ২০০৭ সালে ইকা অঞ্চলের পিসকো প্রদেশে ৭.৯ মাত্রার এক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে প্রায় ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই স্মৃতি আজও পেরুর মানুষের মনে আতঙ্কের কারণ হয়ে থাকে।

উদ্ধারকাজ জারি:
পেরুর জাতীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় উদ্ধারকাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা আশ্রয়ের খোঁজে পার্শ্ববর্তী হুয়াইউকাচি প্রদেশের মতো নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই মুহূর্তে সরকারি ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *