দলত্যাগ বিরোধী আইন নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক: কী যুক্তি দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার?

তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন প্রাক্তন লোকসভা সাংসদের ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগদান এবং এনডিএ-কে সমর্থনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল। এই সংযুক্তিকরণকে পুরোপুরি ‘আইনসম্মত’ এবং ‘সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত’ বলে দাবি করলেন বারাসতের সাংসদ তথা এনসিপিআই-এর চিফ হুইপ ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

দশম তফসিলে কী যুক্তি? রবিবার এক বিবৃতিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেন, তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনের সমর্থন থাকা মানেই এটি সংবিধানের দশম তফসিলের চতুর্থ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি বৈধ ‘মার্জার’ বা সংযুক্তিকরণ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বর্তমান আইন অনুযায়ী দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন থাকলে অন্য দলে মিশে যাওয়া দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় পড়ে না। সুতরাং, সংশ্লিষ্ট সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণার কোনো অবকাশই নেই।

আইনি নজির টেনে দাবি নিজের দাবির সপক্ষে দেশের শীর্ষ আদালতের দুটি ঐতিহাসিক রায়ের প্রসঙ্গ টেনেছেন ডা. দস্তিদার। তিনি উল্লেখ করেন:

  • কিহোতো হলোহান (Kihoto Hollohan) মামলা (১৯৯২): যেখানে সংযুক্তিকরণের ক্ষেত্রে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

  • সুবাস দেশাই বনাম প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মামলা (২০২৩): শিবসেনার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে হাতিয়ার করেই তিনি এই সংযুক্তিকরণের আইনি বৈধতা প্রমাণ করতে চেয়েছেন।

কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পথ তৈরি করে দিল। একদিকে যখন শাসক দল এই সংযুক্তিকরণকে দলবদল হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে এনসিপিআই শিবির এটিকে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে দাবি করছে। এখন দেখার, এই জটিল আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জল কোন দিকে গড়ায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *