‘সেকেন্ড ক্লাস প্যাসেঞ্জার’ বলা সংবিধানের পরিপন্থী! ট্রেন দুর্ঘটনায় বড় নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

‘সেকেন্ড ক্লাস প্যাসেঞ্জার’—এই শব্দবন্ধটি ভারতীয় রেলের সরকারি নথিতে আর ব্যবহার করা যাবে না। ট্রেনের টিকিট বা নথিতে যাত্রীদের শ্রেণিবিভাগ করতে গিয়ে এই ধরনের শব্দ ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি এন. কোটিস্বর সিংয়ের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘সেকেন্ড ক্লাস’ শব্দটি যাত্রীর নয়, বরং ট্রেনের কোচের শ্রেণি বোঝানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত।

সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী:
শুক্রবার এক ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কোনো যাত্রীকে ‘সেকেন্ড ক্লাস’ বা দ্বিতীয় শ্রেণির যাত্রী হিসেবে উল্লেখ করা ভারতের সংবিধানের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। এই ধরণের শব্দপ্রয়োগ দেশের পুরনো সামাজিক বৈষম্যমূলক শ্রেণিবিভাগের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা বর্তমান সময়ে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রেল কর্তৃপক্ষকে তাদের ম্যানুয়াল ও নথিপত্র পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

কী ছিল মামলাটি?
২০১৫ সালে চন্দ্রকান্ত ঠাক্কর নামে এক ব্যক্তি চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে মারা যান। দুর্ঘটনার সময় তাঁর ব্যাগ খুঁজে না পাওয়ায় ট্রেনের টিকিট উদ্ধার সম্ভব হয়নি। এর জেরে রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল এবং মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট তাঁর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই নিহতের স্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান।

সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ:
শীর্ষ আদালত এই রায়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে:

টিকিট নেই মানেই অবৈধ যাত্রী নয়: আদালত স্পষ্ট করেছে, মৃত ব্যক্তির কাছে টিকিট না মেলা মানেই তিনি ‘অবৈধ’ বা ‘বিনা টিকিটের’ যাত্রী—এই যুক্তি মানা যায় না। মৃত ব্যক্তি যে ট্রেনে যাত্রা করছিলেন এবং সেখানেই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। তাই তাঁকে ‘বোনফাইড প্যাসেঞ্জার’ বা বৈধ যাত্রী হিসেবেই গণ্য করতে হবে।

নিরাপত্তায় সতর্কতা: একই সঙ্গে আদালত যাত্রীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, চলন্ত ট্রেনে ওঠা-নামা বা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতের প্রবণতা ত্যাগ করতে হবে। জীবন রক্ষাই রেলযাত্রার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে, সুপ্রিম কোর্ট ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্টের আগের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে। নিহতের স্ত্রীকে ৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ভারতীয় রেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রেলযাত্রার ক্ষেত্রে এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যেমন যাত্রীদের মর্যাদা রক্ষা পেল, অন্যদিকে টিকিট না থাকলেও একজন যাত্রী কীভাবে আইনি সুরক্ষা পেতে পারেন, সেই নজিরও সুপ্রিম কোর্ট স্থাপন করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *