ফ্রিল্যান্সার ও গিগ কর্মীদের জন্য সুখবর! এবার প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় আসার সুযোগ, শুরু হলো কাজ

এতদিন প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ই পি এফ (EPF)-এর সুবিধা মূলত সংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার সেই গণ্ডি পেরিয়ে ফ্রিল্যান্সার, গিগ কর্মী (যেমন ডেলিভারি পার্টনার, ক্যাব চালক) এবং স্ব-নিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য অবসরের সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি করতে চলেছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য:
বর্তমানে ভারতের কর্মশক্তির একটি বিশাল অংশ ইপিএফ ব্যবস্থার বাইরে থাকায় সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা পান না। এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সেই লক্ষ লক্ষ কর্মীকে একটি সুশৃঙ্খল অবসরকালীন সঞ্চয়ের প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হবে।
প্রস্তাবিত স্কিমের বিশেষত্ব:
স্বেচ্ছাধীন অবদান: বর্তমান নিয়মে নিয়োগকর্তা ও কর্মীর সমান অবদানের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই প্রস্তাবিত প্রকল্পে কর্মীরা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় অবদান রাখতে পারবেন।
নমনীয় পেমেন্ট: ফ্রিল্যান্সার বা গিগ কর্মীদের আয়ের কোনো নির্দিষ্ট ছন্দ থাকে না। তাই তাঁদের জন্য দৈনিক, মাসিক বা বাৎসরিক ভিত্তিতে টাকা জমার সুবিধা রাখা হচ্ছে।
কর সুবিধা: বিদ্যমান ই পি এফ মডেলের মতোই বছরে ২.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অবদানের ওপর কর ছাড় পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, সুদের ওপর কোনো কর দিতে হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি সহায়তা: প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মানধন যোজনার মতো এখানে সরকার কোনো আর্থিক সহায়তা দেবে না, অর্থাৎ এটি একটি সম্পূর্ণ সঞ্চয়-ভিত্তিক কাঠামো।
পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু:
যদিও প্রস্তাবটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে এর বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে EPFO। ইতিমধ্যেই এই স্কিমটি পরিচালনার জন্য একটি আইটি (IT) পরিকাঠামো তৈরির লক্ষ্যে দরপত্র বা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। নতুন শ্রম বিধি অনুযায়ী অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাঁদের কর্মীদের রেজিস্ট্রেশনের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই স্কিমটি সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইপিএফও-র এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারতের গিগ ইকোনমি এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীরা তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য একটি নিশ্চিত আর্থিক সুরক্ষার দিশা খুঁজে পাবেন।