১৭ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! প্রয়াত সরকারি কর্মীর ছেলেকে চাকরির নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

প্রয়াত এক সরকারি কর্মীর পরিবারের দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াইয়ের অবসান ঘটল কলকাতা হাইকোর্টের এক মানবিক রায়ে। এক মামলায় বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরী ও বিচারপতি মধুরেশ প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে প্রয়াত পুলিশ কনস্টেবলের ছেলে আকাশরঞ্জন রায়কে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র দিতে হবে।
দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট:
প্রয়াত কনস্টেবল বিকাশরঞ্জন রায় ২০০৯ সালে কর্মকালীন অবস্থায় মারা যান। সেই সময় পরিবারের তরফে তাঁর স্ত্রী কমপ্যাশনেট গ্রাউন্ডে (অনুকম্পার ভিত্তিতে) চাকরির আবেদন জানান। কিন্তু সেই সময় ছেলের বয়স ছিল নাবালক এবং পরিবারের আর কেউ চাকরি পাওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না। ২০১৩ সালে ছেলে সাবালক হওয়ার পর মা তাঁর নাম চাকরির জন্য সুপারিশ করেন। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর তিন সদস্যের স্ক্রিনিং কমিটি আকাশরঞ্জনকে বাবার চাকরি দেওয়ার সুপারিশ করলেও, ২০২২ সালে স্বরাষ্ট্র দফতরের বিশেষ সচিব সেই আবেদন খারিজ করে দেন।
এরপর মামলাটি স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (স্যাট) হয়ে শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছায়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনজীবীর যুক্তি:
মামলাকারীর আইনজীবী সুশান্ত পাল আদালতে জোরালো সওয়াল করেন যে, কমপ্যাশনেট অ্যাপয়েন্টমেন্টের ১০ (এএ) ধারা অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুর পাঁচ বছর পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ থাকে। এক্ষেত্রে যেহেতু বিকাশরঞ্জনের মৃত্যুর সময় পরিবারের কেউ চাকরি পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না, তাই ছেলে সাবালক হওয়ার পর তাঁর চাকরির দাবি আইনত গ্রহণযোগ্য। সমস্ত সওয়াল-জবাব শোনার পর ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের আগের খারিজ হওয়া সিদ্ধান্ত বাতিল করে আকাশরঞ্জনের পক্ষেই রায় দেয়।
কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ?
সাধারণত সরকারি কর্মীর মৃত্যুর ছয় মাসের মধ্যে পরিবারের কাউকে চাকরির আবেদন করতে হয়। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে জটিলতা তৈরি হওয়ায় অনেক পরিবারের দীর্ঘসময় চাকরি পেতে সমস্যা হয়। ১৭ বছর ধরে চাকরির আশায় বসে থাকা আকাশরঞ্জন রায়ের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের এই নির্দেশ কার্যত নতুন নজির তৈরি করল।
আদালতের এই রায় পরিবারটির জীবনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বস্তি ফিরিয়ে আনল। এখন দেখার বিষয়, আট সপ্তাহের ডেডলাইনের মধ্যে রাজ্য প্রশাসন কীভাবে এই নির্দেশ কার্যকর করে।