মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক পরিণতি! প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করল স্ত্রী

অমাবস্যার পুজো দেওয়ার অছিলায় স্বামীকে মন্দিরে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর জেলায়। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইলের লাইভ লোকেশন এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

কীভাবে ঘটল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড?
নিহত যুবকের নাম রমেশ (২৩)। প্রায় দু’বছর আগে শান্তিপুরমের বাসিন্দা হাসিনী (১৯)-কে বিয়ে করেছিলেন তিনি। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের একটি শিশুকন্যাও রয়েছে। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, বিয়ের পরও হাসিনীর সঙ্গে তাঁর শৈশবের বন্ধু যুগন্ধরের প্রেমের সম্পর্ক বজায় ছিল। সেই সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত স্বামীর প্রাণ নিল।

মঙ্গলবার হাসিনী স্বামী রমেশকে শ্রী মল্লেশ্বর স্বামী মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। সেইমতো স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে নিয়ে বাইকে করে রওনা হন রমেশ। যাতায়াতের পথে নিজের ফোন থেকে প্রেমিকের কাছে বারবার ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠাচ্ছিলেন হাসিনী, যাতে ঘাতকদের তাঁর গতিবিধি বুঝতে সুবিধা হয়।

গুদুপল্লে মণ্ডলের মল্লাপ্পা কন্ডা পাহাড়ি রাস্তায় একটি নির্দিষ্ট বাঁকের কাছে পৌঁছাতেই হাসিনী নিজের ব্যাগটি ইচ্ছা করে ফেলে দেন। ব্যাগ তোলার জন্য রমেশ বাইক থামালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা যুগন্ধর ও তার দুই সহযোগী ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে রমেশকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয় এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খুনের সময় দম্পতির শিশুকন্যাও পাশেই ছিল।

কীভাবে ফাঁস হলো চক্রান্ত?
ঘটনার পর রমেশ ও হাসিনী বাড়ি না ফেরায় পুলিশের দ্বারস্থ হন মৃতের পরিবার। তদন্তে নেমে পুলিশ মন্দির সংলগ্ন রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। সেখানে দেখা যায়, রমেশ বাইক চালিয়ে নিয়ে গেলেও, ফেরার পথে সেই বাইকেই হাসিনীকে অন্য দুই যুবকের সঙ্গে চলে যেতে দেখা যাচ্ছে। এরপর ফোনের কল রেকর্ড এবং লোকেশন ডেটা বিশ্লেষণ করে পুলিশ হাসিনী, প্রেমিক যুগন্ধর এবং তাদের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে।

আইনি ব্যবস্থা
পুলিশ সূত্রে খবর, হাসিনী যখন বিয়ে করেছিলেন, তখন তিনি নাবালিকা ছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে শিশু বিবাহ বিরোধী আইনেও তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের হতে পারে।

বর্তমানে ধৃতদের জেরা করে খুনের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছে পুলিশ। পুজো দেওয়ার নামে এই ঠান্ডা মাথার খুনের ঘটনায় গোটা এলাকায় শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *