পুরীর রথযাত্রায় শোকের ছায়া! ভিড়ের চাপে অসুস্থ হয়ে মৃত ২, হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক ভক্ত

রথযাত্রার উৎসবে মেতে ওঠা পুরীতে আচমকাই নেমে এল শোকের ছায়া। বৃহস্পতিবার গ্র্যান্ড রোডে প্রবল ভিড় ও বৃষ্টির মধ্যে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে দুই পুণ্যার্থীর। যদিও প্রাথমিকভাবে পদপিষ্ট হওয়ার জল্পনা ছড়িয়েছিল, তবে ওড়িশা সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেনি। অসুস্থতার কারণেই এই অঘটন ঘটেছে বলে দাবি প্রশাসনের।
কী ঘটেছিল বৃহস্পতিবার?
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে রথযাত্রা উপলক্ষে গ্র্যান্ড রোডে কয়েক লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রার রথ টানার সময় প্রবল ভিড় ও বৃষ্টিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভিড়ের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন ১০০-রও বেশি ভক্ত। তাঁদের তড়িঘড়ি পুরী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
মৃতদের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ
প্রশাসন সূত্রে খবর, মৃতদের মধ্যে একজনের বয়স ৬০ এবং অন্যজনের বয়স ৩৫ বছর।
৬০ বছর বয়সি ব্যক্তি: ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
৩৫ বছর বয়সি ব্যক্তি: প্রবল ভিড়ের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও শেষরক্ষা হয়নি।
নিরাপত্তার কড়াকড়ি সত্ত্বেও বিপত্তি
এবারের রথযাত্রাকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। প্রায় ১২ হাজার পুলিশকর্মী, ১৯ জন আইপিএস অফিসার এবং শতাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও এই বিপত্তি এড়ানো সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার পুরীতে প্রায় ৮ থেকে ৯ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়েছিল বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
প্রশাসনের বক্তব্য
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর দফতর (CMO) থেকে দেওয়া বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এটি কোনোভাবেই পদপিষ্টের ঘটনা নয়। ভিড় সামলানো এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো বড় ধরনের গাফিলতি হয়নি। প্রতিকূল আবহাওয়া, অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও শারীরিক সমস্যার কারণেই ভক্তরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসায় যাতে কোনো গাফিলতি না হয়, সেদিকে সর্বক্ষণ নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বৃষ্টির কারণে বৃহস্পতিবার রথ টানা সম্পূর্ণ করা যায়নি। মন্দির কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ফের রথ টানা শুরু হবে। ২৪ জুলাই ‘বহুড়া যাত্রা’-র মধ্য দিয়ে দেবতারা পুনরায় মূল মন্দিরে ফিরে আসবেন।