ইরানে টানা ৬ রাত মার্কিন মিসাইল হামলা! রণক্ষেত্র হরমুজ প্রণালী, তেলের বাজারে তীব্র আতঙ্ক।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সামরিক উত্তজনা চরমে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে ধ্বংস করতে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো দেশটিতে বড় আকারের সামরিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ থেকে চালানো এই হামলায় বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকাগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে।

হামলার প্রেক্ষাপট ও মার্কিন লক্ষ্য: মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের দক্ষিণ উপকূলের সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হুমকি সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই সমুদ্রপথকে সুরক্ষিত রাখতেই আমেরিকা এই কড়া সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা হামলা: ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মার্কিন মিসাইলগুলো বন্দর আব্বাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সামরিক কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। এদিকে, তেহরানও ছেড়ে কথা বলছে না। মার্কিন হামলায় আহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর আসার পাশাপাশি, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

যুদ্ধ ও কূটনীতির সমান্তরাল পথ: এত তীব্র সংঘাতের মধ্যেও কূটনৈতিক চ্যানেলের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, সামরিক চাপের মুখে পড়ে তেহরান এখনও ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরান বুঝতে পেরেছে মার্কিন বাহিনীর আক্রমণের ভয়াবহতা, তাই তারা আলোচনার টেবিলে ফিরতে চাইছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে কোনোভাবেই সন্ত্রাস বা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা বরদাস্ত করা হবে না।

বিশ্ববাজারে প্রভাব: এই সংঘর্ষের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বমুখী, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বাণিজ্য জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এই সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, একদিকে চলছে বিধ্বংসী সামরিক অভিযান, অন্যদিকে চলছে পর্দার আড়ালের কূটনৈতিক দর কষাকষি। ২১ জুলাইয়ের পরবর্তী সময়ে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *