TMC-র আরেক MP-ও BJP-র পথে? ‘অপারেশন লোটাস’-এর লক্ষ্য এবার কে?

কোয়েল মল্লিকের ইস্তফার রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফের নতুন জল্পনা। দলীয় সূত্রে খবর, ঘাসফুল শিবিরের আরও এক রাজ্যসভার সাংসদের সঙ্গে নাকি যোগাযোগ করেছে বিজেপি এবং তাঁকে দলবদলের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই ফোনালাপ ওই সাংসদ রেকর্ডও করে রেখেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, যদিও এর সত্যতা নিয়ে কোনো সরকারি প্রমাণ মেলেনি।
কারা নেপথ্যে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে বিজেপির শক্তি বাড়ানোর এই পুরো প্রক্রিয়ার দায়িত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কৌশল নির্ধারণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া, বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে এবং সি এম রমেশকেও এই যোগাযোগের নেপথ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
সংসদের বাদল অধিবেশন ও বিরোধী জোট: আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে চলেছে সংসদের বাদল অধিবেশন, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন তৃণমূলের ঘর ভাঙছে, অন্যদিকে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ তাদের ঐক্য বজায় রাখার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
কী কী বিল আসতে পারে? এই অধিবেশনে সরকারের তালিকায় ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ বা এলাকা পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বড় বিলগুলি আপাতত না থাকলেও, পাঁচটি সংশোধনী বিল পাসের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
-
ইনকাম ট্যাক্স সংশোধনী বিল।
-
সুপ্রিম কোর্ট জাজেস সংশোধনী বিল।
-
রেজিস্ট্রেশন অব বার্থ অ্যান্ড ডেথস সংশোধনী বিল।
-
প্রিভেনশন অব ইনসাল্ট টু ন্যাশনাল অনার সংশোধনী বিল।
-
এমএসএমই ডেভেলপমেন্ট সংশোধনী বিল।
বিরোধীদের রণকৌশল: কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জনস্বার্থবিরোধী কোনো বিলই তারা সহজে পাস হতে দেবেন না। বিরোধী জোটের সমন্বয় বজায় রাখতে সোনিয়া গান্ধী সমস্ত নেতাদের কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, যোগাযোগে সামান্য ফাঁক থাকলেই বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা লুটে নেবে।
পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা জাতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে এবং বাদল অধিবেশনে বিরোধী জোট কতটা কার্যকরী ভূমিকা নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।