পুলকারে ধাক্কা মারল ট্রেন, মৃত ২ পড়ুয়া সহ ৩, আতঙ্ক এলাকায়!

শুক্রবার সকালে এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল মুর্শিদাবাদের বহরমপুর। কর্ণসুবর্ণ রেলগেটে ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল একটি স্কুল ভ্যান। এই দুর্ঘটনায় ২ জন পড়ুয়া সহ মোট ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহতদের উদ্ধার করে তড়িঘড়ি মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
কী ঘটেছিল সকালে? স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতোই এদিন সকালে পুলকারে করে পড়ুয়ারা তাদের বেসরকারি স্কুলে যাচ্ছিল। কর্ণসুবর্ণ রেলগেট পার হওয়ার সময় আচমকাই নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি চলে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই সময় লেভেল ক্রসিংয়ের গেট খোলা ছিল। গেট খোলা থাকায় চালক গাড়ি নিয়ে লাইনের ওপর উঠে পড়েন এবং তখনই ঘটে যায় এই বিভীষিকা। ট্রেনের ধাক্কায় গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনার সময় ওই গাড়িতে ৮ জন যাত্রী ছিল বলে জানা গেছে।
রেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি? এই দুর্ঘটনার পরই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, রেলগেটে গেটম্যানের গাফিলতিতেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সকালে একটি আপ ট্রেন যাওয়ার সময় গেট বন্ধ ছিল, কিন্তু ট্রেন চলে যাওয়ার পরেই গেট খুলে দেওয়া হয়। গেট খোলার মুহূর্তেই অন্য দিক থেকে চলে আসে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি। প্রশ্ন উঠছে, কেন ট্রেন আসার আগেই রেলগেট খুলে দেওয়া হলো?
প্রশাসনের পদক্ষেপ: ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহতদের প্রথমে কর্ণসুবর্ণ ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে পূর্ব রেলের তরফে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গেটম্যানের উপস্থিতি এবং সেই সময়ের কাজের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে পূর্ব রেলের বিশেষ টিম।
পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকে রেলের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে।