বাড়ি বা জমি বিক্রির পরিকল্পনা? করদাতাদের জন্য বড় সুখবর, নতুন CII ঘোষণা করল আয়কর বিভাগ

যারা এই অর্থবর্ষে (২০২৬-২৭) দীর্ঘমেয়াদী কোনো সম্পদ যেমন—পুরোনো বাড়ি, জমি বা সোনা বিক্রির কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এলো এক খুশির খবর। কেন্দ্রীয় আয়কর বিভাগ (CBDT) ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য কস্ট ইনফ্লেশন ইনডেক্স (CII) বা ব্যয় মূল্যস্ফীতি সূচক বাড়িয়ে ৩৮৪ নির্ধারণ করেছে। গত অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) এই সূচক ছিল ৩৭৬।

CII কী এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সহজ কথায়, মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে কোনো সম্পদের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করাই হলো এই সূচকের কাজ। সময়ের সঙ্গে জিনিসের দাম বাড়ে, তাই পুরনো কোনো সম্পদ বিক্রির সময় বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে মুদ্রাস্ফীতিকে সমন্বয় করা হয়। ফলে, করদাতাকে তার প্রকৃত লাভের ওপরই শুধু কর দিতে হয়, মুদ্রাস্ফীতির ফলে বেড়ে যাওয়া দামের ওপর নয়। এতে করদাতাদের করের বোঝা অনেকাংশেই কমে।

করদাতারা কীভাবে উপকৃত হবেন?
সূচীকৃত অধিগ্রহণ ব্যয় (Indexed Cost of Acquisition): নতুন সূচক ৩৮৪ হওয়ার ফলে, করদাতারা যখন তাদের সম্পদের ক্রয়মূল্যকে আজকের মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বয় করবেন, তখন সম্পদের ‘অধিগ্রহণ ব্যয়’ বেড়ে যাবে।

লাভ হ্রাস: ক্রয়মূল্য যত বেশি হবে, খাতায়-কলমে আপনার ‘লাভের’ পরিমাণ তত কমে আসবে। আর লাভ কমলে আপনাকে করও দিতে হবে কম।

কারা পাবেন এই সুবিধা?
রিয়েল এস্টেট (বাড়ি বা জমি), গহনা এবং নির্দিষ্ট কিছু সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে এই সূচীকরণের সুবিধা পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে, এর জন্য সম্পদটি ‘দীর্ঘমেয়াদী’ (Long-Term) হতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ চেনার নিয়ম:
রিয়েল এস্টেট ও তালিকাভুক্ত নয় এমন শেয়ার: ২৪ মাসের বেশি ধরে রাখলে।

তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ: ১২ মাসের বেশি ধরে রাখলে।

অন্যান্য সম্পদ: সাধারণত ৩৬ মাসের বেশি সময় ধরে রাখলে।

আপনার জন্য পরামর্শ:
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য আয়কর রিটার্ন ফাইল করার সময় বা দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী লাভ (LTCG) গণনার সময় এই ৩৮৪ সূচকটি ব্যবহার করুন। এটি আপনার করযোগ্য লাভের পরিমাণ কমিয়ে আপনার কষ্টার্জিত সঞ্চয় রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *