জেলবন্দি দুই খুনি পেলেন বিয়ের অনুমতি! ২২ জুলাই বসবে ওপেন জেলের আসর, সাক্ষী থাকবে প্রশাসন

জেল মানেই চার দেয়ালের বন্দিদশা, কিন্তু সেই দেওয়ালই যখন হয়ে ওঠে ভালোবাসার সাক্ষী—তখন তা নিয়ে শোরগোল পড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। রাজস্থান হাইকোর্টের এক ঐতিহাসিক নির্দেশে জোধপুরের মানদোর ওপেন জেলের অন্দরেই বসতে চলেছে বিয়ের আসর। আজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত দুই বন্দি, মূলারাম এবং সীমা, আগামী ২২ জুলাই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন।

সংশোধনাগার থেকে পরিণয়
নাগৌর জেলার বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী মূলারাম এবং মুম্বাইয়ের ৩১ বছর বয়সী সীমা—দুজনই গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে আজীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। বছর দুয়েক আগে জোধপুরের মানদোর ওপেন জেলে তাদের স্থানান্তর করা হয়। সেখানে খোলা আকাশের নিচে চাষবাসের কাজ করার সুযোগ পান বন্দিরা। আর সেই কৃষি খামারের কর্মক্ষেত্রের পরিচিতিই কালক্রমে গভীর প্রেমে রূপ নেয়।

কেন এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত?
রাজস্থান হাইকোর্টের বিচারপতি ড. পুষ্পেন্দ্র সিং ভাটি এবং বিচারপতি প্রবীর ভটনাগরের বেঞ্চ এই বিয়ের অনুমতি দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, জেল ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য কেবল শাস্তি নয়, বরং অপরাধীর সংশোধন এবং তাকে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা। বন্দিদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন এবং সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনের অধিকার সুধরাত্মক ন্যায়বিচারেরই অংশ। ২০২২ সালের ‘নন্দলাল বনাম রাজ্য’ মামলার রেফারেন্স টেনে আদালত জানিয়েছে, এমন মানবিক সিদ্ধান্ত বন্দিদের নতুন জীবন শুরুর প্রেরণা দেবে।

পারিবারিক ছায়ায় বিয়ের সাক্ষী প্রশাসন
সূত্রের খবর, সীমার ৪০ দিনের প্যারোল চলাকালীনই বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এরপরই তারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সরকারি পক্ষ এই বিয়েতে কোনো আপত্তি জানায়নি। ২২ জুলাই জেল প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতেই সম্পন্ন হবে এই বিবাহ অনুষ্ঠান। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সীমার এক বান্ধবীর বাবা এই বিয়েতে ‘কন্যাদান’ করবেন। বিয়ের কার্ডে বাবার নামের জায়গায় তার নামই ছাপানো হয়েছে।

অপরাধের নেপথ্য কাহিনী
শুনানিতে উঠে এসেছে দুজনের অপরাধের চাঞ্চল্যকর তথ্য। মূলারাম প্রতিবেশীকে হত্যার দায়ে ২০২৩ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। অন্যদিকে, সীমা নিজের অনিচ্ছায় হওয়া বিয়ে থেকে বাঁচতে বিয়ের মাত্র দুমাসের মাথায় স্বামীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ২০১৯ সাল থেকে জেল খাটছেন।

শাস্তি ও সংশোধনের পথে দাঁড়িয়ে, সমাজের চোখে অপরাধী হলেও, আইনের দেওয়া এই মানবিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নতুন জীবনের পথে পা বাড়াচ্ছেন মূলারাম-সীমা। জেলের চার দেওয়ালের মাঝে এই অদ্ভূত মিলন এখন রাজস্থানের প্রধান আলোচনার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *