চেয়ার বাঁচাতে লাখ লাখ টাকা বিলি? পঞ্চায়েত প্রধানের ‘নোট ছড়ানোর’ ভিডিও ঘিরে মালদহে শোরগোল!

নিজের চেয়ার বাঁচাতে শাসকদলেরই এক নির্বাচিত সদস্যা’র স্বামীর হাতে লক্ষাধিক টাকা তুলে দিচ্ছেন তৃণমূলের মহিলা পঞ্চায়েত প্রধান—এমনই এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে মালদহের উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে। এই ভিডিওর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব না হলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় এটি ছড়িয়ে পড়তেই শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধীরা।

কী দেখা যাচ্ছে ভাইরাল ভিডিওতে?
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান অর্চনা মণ্ডল নিজের হাতে ৫০০ টাকার নোটের কয়েকটি বান্ডিল (প্রায় ৪ লক্ষ টাকা) তুলে দিচ্ছেন পঞ্চায়েতেরই এক সদস্যা নাজমা বিবির স্বামী মোস্তফা শেখের হাতে। ওই ঘরেই উপস্থিত ছিলেন দলের অন্যান্য নেতা ও পঞ্চায়েত সদস্যরা। ভিডিওতে মোস্তফাকে সরাসরি বলতে শোনা যায়, পঞ্চায়েত প্রধান অর্চনা মণ্ডলের সমর্থনে সদস্যদের পাশে থাকার জন্যই এই টাকা দেওয়া হচ্ছে।

পুরনো বিরোধ ও বর্তমান পরিস্থিতি
উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও, গত দু’মাস ধরে প্রধান অর্চনা মণ্ডলের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ ও কাটমানি সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা। এমনকি তাঁর বাড়ি ঘেরাও করেও বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপির পক্ষ থেকে অনাস্থা ডাকার পরিকল্পনার মুখে পড়ে, নিজের গদি ধরে রাখতে দলের সদস্যদের ‘টাকা দিয়ে ম্যানেজ’ করার কৌশল নিয়েছেন প্রধান।

রাজনৈতিক চাপানউতোর
মানিকচকের বিজেপি বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগ, “এই ভিডিও থেকেই স্পষ্ট যে তৃণমূল নেতারা দুর্নীতি ও কাটমানির নেশায় ডুবে রয়েছেন। নিজেদের দলের সদস্যদের ধরে রাখতেই প্রকাশ্যে বেআইনিভাবে টাকা বিলি করা হচ্ছে।”

অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী জানিয়েছেন, “ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারব না। তবে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়লে প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।”

অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান অর্চনা মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন সুইচ অফ থাকায় কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় শাসকদলের অন্দরে এবং মালদহের রাজনৈতিক আঙিনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *